বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের প্রধান শিল্প, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া শহরের মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়ার উন্নয়নের সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন।
সমকাল জানিয়েছে, সভাটির আয়োজক ছিল দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন; সভাপতিত্ব করেন পত্রিকাটির সম্পাদক লোটন একরাম। নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনটি সরকারি বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে তৈরি।
প্রতিমন্ত্রী যেসব প্রকল্পের কথা বললেন
নয়া দিগন্ত ও সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে গতি আসবে। বগুড়ায় বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার উন্নয়নে ৩ হাজার ৫০০ কোটি এবং পৌরসভাগুলোর জন্য আরও ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
সড়ক যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলো চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নয়া দিগন্ত লিখেছে, শহরের যানজট কমাতে করতোয়া নদীর পাশ দিয়ে চার লেনের সড়ক করার পরিকল্পনাও আছে। এসব প্রাথমিক কাজে ইতিমধ্যে ৭০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এ ছাড়া বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডিএ) গঠনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে, প্রতিটি উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ এবং বিসিক শিল্পপার্কের কাজ শিগগির শুরু হবে বলে জানান তিনি। সমকালের প্রতিবেদনে যমুনার ভাঙন রোধ, পানি সংরক্ষণ ও বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র করার উদ্যোগের কথাও এসেছে।
‘২০ বছরের বঞ্চনা’
সমকাল জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২০ বছর বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। কৃষিতে উদ্বৃত্ত এই জেলায় বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত হলেও এলাকাটি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পায়নি। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগবে।
সভায় প্রধান বক্তা প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বগুড়ার বঞ্চনার অবসান ঘটানোর কথা বলেন এবং গত ২০ বছরে জেলার উন্নয়ন নিয়ে ‘ভণ্ডামি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা ও আব্দুল মুহিত তালুকদার, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
সভায় দেওয়া বক্তব্যে কোন প্রকল্প কবে শুরু বা শেষ হবে, সে সময়সূচি দুই পত্রিকার প্রতিবেদনের কোনোটিতেই উল্লেখ নেই।