রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ও পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় হঠাৎ শুরু হওয়া এই ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গোদাগাড়ী পৌর এলাকার ভাঙনপ্রবণ পদ্মাপাড় পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। পরিদর্শনকালে তিনি নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে কোন প্রকল্প বা কত দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, পাউবো রাজশাহীর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল হোসেন এবং গোদাগাড়ীর ইউএনও ইসরাত জাহান।
যেসব এলাকায় ভাঙন
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে ৭ নম্বর দেওপাড়া ইউনিয়নের নিমতলা ও খারিজাগাতি এলাকায়। পৌর এলাকার সারাংপুর, কাচারীপাড়া, রেলবাজার, কুঠিপাড়া, বারুইপাড়া ও সুলতানগঞ্জেও নদী তীর ভাঙছে। বাসিন্দারা জানান, পানি বাড়া ও স্রোত তীব্র হওয়ায় প্রতিদিনই নতুন করে জমি ধসে পড়ছে। দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হলে আরও বহু পরিবার ভিটেমাটি হারাবে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
জিওব্যাগে সাময়িক ঠেকানোর চেষ্টা
রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, ‘আমরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি।’ তিনি জানান, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি স্থানে জিওব্যাগে বালু ভরে ফেলা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর আগেও কয়েক দফায় ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ইউএনও ইসরাত জাহান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলনকে সঙ্গে নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেন। ইউএনও তখন জানান, পরিস্থিতিকে জরুরি হিসেবে বিবেচনা করে রাজশাহী পাউবো ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এবং ৩ অক্টোবর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন।