মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন যুদ্ধ আগের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে, হুঁশিয়ারি ইরানের সেনাবাহিনীর; হামলার সময় নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু মতভেদের খবর

ইরানের ‘এক বা দুটি স্থাপনা’ এখনো বাকি বলে ট্রাম্প নতুন হামলার ইঙ্গিত দেওয়ার পর দীর্ঘ যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান; আলোচনা প্রশ্নে দেশটির কর্মকর্তারা শর্ত ও অনাগ্রহ দুটিই জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ বাধলে তা আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, এমন যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঠিক করে দিতে পারবেন না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আরও হামলার হুমকি দেওয়ার পর এ সতর্কবার্তা এল। এএফপির এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়, আকরামিনিয়া আরও দাবি করেছেন, ইরানের রণকৌশল অনেক আগেই প্রতিরক্ষামূলক থেকে আক্রমণাত্মক হয়েছে এবং নতুন যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেকোনো নতুন মার্কিন হামলার ‘তাৎক্ষণিক ও বিধ্বংসী’ জবাব দেওয়ার কথাও বলেছে সেনাবাহিনী। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির এক দিন আগের লিখিত সতর্কবার্তার সুরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ‘কোনো ভৌগোলিক সীমা থাকবে না’।

ট্রাম্পের হুমকি

এএফপির খবরে বলা হয়, ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ‘এক বা দুটি স্থাপনা’ এখনো সামলানো বাকি এবং তা ‘১০ মিনিটে’ করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে তিনি পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের নাম নেন, যেটিকে মাটির নিচের একটি পারমাণবিক স্থাপনা বলে সন্দেহ করা হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আইওয়ায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, কোনো এক সময় হয়তো তেহরানকে ‘হাতুড়ির ঘা’ দিতে হবে। তবে মিডল ইস্ট আই জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, নতুন হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা আছে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু মতভেদের খবর

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক মার্কিন ও এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, শনিবার ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলার জন্য চাপ দেন, আর ট্রাম্প চলমান আলোচনাকে সময় দিতে চেয়েছেন। ইসরায়েলি সূত্র আলাপটিকে ‘কঠিন’ এবং মার্কিন সূত্র ‘সরাসরি’ বলে বর্ণনা করেছে। হোয়াইট হাউস ও নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ খবরে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, ট্রাম্প রোববার সাংবাদিকদের বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরান নিয়ে তাঁর ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং আবার হামলা শুরুর বিষয়ে তাঁর ‘খুব একটা তাড়া নেই’।

আলোচনা নিয়ে ইরানের অবস্থান

আলোচনার প্রশ্নে তেহরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্ন সুর মিলছে। মিডল ইস্ট আই জানায়, ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ এক অধিবেশনে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার ‘কোনো ইচ্ছা’ ইরানের নেই, কারণ ওয়াশিংটনের ‘নতুন কিছু দেওয়ার নেই’; চাপ যতই থাকুক, পারমাণবিক বিষয়ে তেহরান দর-কষাকষি করবে না।

অন্যদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি শনিবার জানান, আলোচনা আবার শুরুর বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি চিঠি পেয়েছেন তিনি। মার্কিন ‘সুরে’ ইতিবাচক পরিবর্তন দেখলেও ইরান এখনো জবাব দেয়নি। রেজায়ির ভাষ্য, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়, ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধের অবসান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, আলোচনাও হবে না। সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আশা করছেন যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির পথ বেছে নেবে; ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি দুটির জন্যই প্রস্তুত।

এএফপির তথ্যমতে, চলমান যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র পর্ব শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে; জবাবে অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে ইরান, আর ইরানি বন্দরগুলোতে পাল্টা নৌ-অবরোধ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় এক সম্মেলনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, তাঁর দেশ কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা করছে, তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে।