শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দ ব্যবহার অনিচ্ছাকৃত, তৃতীয় লিঙ্গ বোঝাতে চেয়েছিলাম: শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা; প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাইল ইসলামী আন্দোলন

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তৃতীয় লিঙ্গ বোঝাতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে তিনি ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি বলে ফেলেছেন।

বিবৃতিতে মন্ত্রী জানান, গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার প্রসঙ্গে তিনি কথা বলেছিলেন। মন্ত্রী বলেন, সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের অনেক মানুষ অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার; সেই প্রেক্ষাপটে তাঁদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোই ছিল বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য।

বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁর অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’—এ কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা রয়েছে। সেদিনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষার সুযোগ এবং তাঁদের শিক্ষাগত অর্জনকে উৎসাহিত করা।

এর আগে মন্ত্রীর ওই বক্তব্যকে সমাজবিরোধী ও বিজ্ঞানবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব শাহ ইফতেখার তারিক এক বিবৃতিতে অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তাঁর ভাষ্য, ‘প্রকৃত হিজড়ারা আমাদের সমাজেরই একটি অংশ’; তবে হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার তাঁর মতে এক বিষয় নয়, এবং ট্রান্সজেন্ডারিজমকে তিনি ‘বিজ্ঞানবহির্ভূত’ ও ‘মারাত্মক বিকৃতি’ বলে উল্লেখ করেন।