মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

ঋণসুবিধার আড়ালে ১,১২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ; সালমান এফ রহমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা

দুদকের অভিযোগ, স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস, আরবান ফ্যাশনস ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের নামে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলসহ ঋণ নিয়ে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি বিলের মাধ্যমে টাকা সরানো হয়েছে; আসামিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঋণসুবিধার অপব্যবহার করে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি বিল বানিয়ে ১ হাজার ১২১ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সালমান এফ রহমান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। সোমবার (২ নভেম্বর) দুদকের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানানো হয়।

আমার দেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, কমিশন তিনটি নিয়মিত মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) জানিয়েছে, দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেছেন, মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। কোন কার্যালয়ে বা থানায় মামলাগুলো রুজু হয়েছে, দুই প্রতিবেদনের কোনোটিতেই তা উল্লেখ নেই।

তিন প্রতিষ্ঠান, তিন মামলা

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের বরাতে আমার দেশ জানায়, প্রথম মামলাটি স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডকে ঘিরে। জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধাসহ ঋণ দেওয়া হয়েছিল, যদিও এর পরিচালকদের আগে ব্যবসা চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল না বলে অভিযোগ। পরে নিজেদের মধ্যে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ ডলারের অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের বেশি দেশে ফেরত না এনে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে বলে দুদকের দাবি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি। এ মামলায় আসামি ২২ জন।

দ্বিতীয় মামলা আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে নেওয়া ইডিএফসহ ঋণ নিয়ে। দুদকের ভাষ্য, বাস্তবে পণ্য আমদানি না করেই মূল্য পরিশোধের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়, পরে নগদ উত্তোলনসহ নানা উপায়ে সেই অর্থ হাতবদল করে পাচার করা হয়। এ মামলাতেও আসামি ২২ জন। তৃতীয় মামলায় মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা নিয়ে একই কৌশলে অ্যাকোমোডেশন বিলের মাধ্যমে প্রায় ৫৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে আসামি ২৫ জন। তিন মামলার অঙ্ক যোগ করলে আত্মসাতের অভিযোগ দাঁড়ায় ১ হাজার ১২১ কোটি টাকার কিছু বেশি; আমার দেশের শিরোনামে অবশ্য ১ হাজার ২২১ কোটি টাকার কথা লেখা হয়েছে।

আসামি কারা

আমার দেশের প্রতিবেদনে আসামিদের মধ্যে সালমান এফ রহমান ও তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানের পাশাপাশি বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক হিসেবে উল্লেখিত এ এস এফ রহমান, ইকবাল আহমেদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরীর নাম রয়েছে। স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস ও ক্রিসেন্ট অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকেরা এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদসহ ব্যাংকটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও আসামির তালিকায় আছেন। তিন মামলার আসামি যোগ করে মোট ৬৯ জন বলা হলেও টিবিএসের ইংরেজি প্রতিবেদনের শিরোনামে সালমানসহ ৬৭ জনের কথা এসেছে; কেউ একাধিক মামলায় আসামি কি না, তা প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্ট নয়।

যেসব আইনে মামলা

দুদকের ভাষ্য, তিন ঘটনাতেই ক্ষমতার অপব্যবহার, যোগসাজশ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। টিবিএস জানায়, দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর (সংশোধিত ২০১৫) ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাগুলো হয়েছে।

অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে সালমান এফ রহমান, অন্য আসামি কিংবা তাঁদের আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।