রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬

অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় ৩১৫ গ্রাহকের প্রায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, টাকা ফেরতে মানববন্ধন

টাকা তুলতে গেলে ‘অ্যাকাউন্ট নেই’ বলা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সাত দফা দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় ৩১৫ জন গ্রাহকের প্রায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আমানতের অর্থ ফেরতের দাবিতে অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

রোববার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতে কার্যকর উদ্যোগ।

ভুক্তভোগী গ্রাহক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক জাফরিন আলম রাখী বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই তাঁরা শাখায় টাকা জমা রেখেছিলেন। এখন টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে, তাঁদের নামে সেখানে কোনো অ্যাকাউন্টই নেই। এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়কেও জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁদের একটাই দাবি—জমা রাখা টাকা দ্রুত ফেরত দিতে হবে।

শ্রীনগর শাখার ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, শাখায় ঘটা আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতিতে বহু গ্রাহক সারা জীবনের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ ও ব্যবসায়িক মূলধন হারিয়ে চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। আমানত ফেরত না পাওয়ায় তাঁরা ও তাঁদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ; অনিয়মের কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। অভিযোগ নিয়ে অগ্রণী ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।