শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

জুলাই–সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭.১৩ শতাংশ, সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৩১: প্রোটিনজাতীয় খাবারের দাম বাড়তি

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, সবজি, চাল ও গমের দাম কমায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে; তবে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও ডালের দাম বাড়ছে।

সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ডিম, আলু, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। নিত্যপণ্যের বাজারে এমন বিপরীতমুখী প্রবণতার মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির ধরন: জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে গড় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশে নেমেছে, আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। সবজির পাশাপাশি চাল ও গমের দাম কমায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে। তবে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও ডালের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের দাম বাড়তির দিকে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের অবদান ৫১ শতাংশের বেশি।

একই সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি গড়ে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশে নেমেছে; এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে এই হার ছিল ৯ দশমিক ২১ শতাংশ। কিন্তু জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি গড়ে ১৭ থেকে বেড়ে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। এই খাতে কাঠ, কৃষিজাত বর্জ্য, গোবর ও পাটকাঠির মতো জ্বালানি পণ্যের মূল্যস্ফীতি ২১ দশমিক ৮ থেকে বেড়ে ২২ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। জ্বালানি তেল ও লুব্রিকেন্টের মতো তরল জ্বালানির মূল্যস্ফীতি ১৩ দশমিক ৮ থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে আমদানিনির্ভর পণ্যের চাপের কথাও বলা হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে সার্বিক মূল্যস্ফীতির ২৭ শতাংশ এসেছে আমদানিনির্ভর খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য থেকে; আগের প্রান্তিকে এই অংশ ছিল ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ। দেশীয় পণ্যের অবদান ৭৫ দশমিক ১ থেকে কমে ৭৩ শতাংশ হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাল্টা, আপেল, নাশপাতি ও আঙুরের ওপর সরকার শুল্ক–কর বাড়িয়েছে এবং বাজারে ফলের দাম বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়েমা হক বলেন, দেশে চার বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। তাই মূল্যস্ফীতি বেশি হারে না কমলে মানুষের জীবনে তার প্রভাব সেভাবে অনুভূত হয় না। তাঁর মতে, দরিদ্র মানুষের খাদ্য ব্যয় অন্যদের তুলনায় বেশি, ফলে দীর্ঘ সময় খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে তাঁদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রোটিনজাতীয় খাবারের দাম বাড়লে মানুষের পুষ্টি চাহিদায়, বিশেষ করে দুধের দাম বাড়লে শিশুদের পুষ্টিতে প্রভাব পড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।