রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান মঙ্গলবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদীর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। সকাল পৌনে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় তিনটি লরিতে করে জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার সকালে রাশিয়া থেকে ভারতের দিল্লি হয়ে জ্বালানিবাহী উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ১২টি বিশেষ প্যাকেজে মোট ৪১ টন জ্বালানি আনা হয়। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা তা বুঝে নেন।
মঙ্গলবার সকালে তিনটি লরি ঢাকা থেকে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। পুলিশ ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পথে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। যানজট এড়াতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে আরও ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আনার কথা। মঙ্গলবারের চালান দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের তৃতীয় চালান। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আরও সাতটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে চালান আসার কথা রয়েছে, যেগুলো কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে পৌঁছায়। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে আরও চারটি চালানে জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় পরপর ব্যবহৃত জ্বালানির একাংশ পরিবর্তন করতে হয় বলে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান ৩ অক্টোবর আনা হয়েছিল। সর্বশেষ ২১ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের দ্বিতীয় চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে; এরপর নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বালানি বদলের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে। কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শেষ হলেও কারিগরি জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সূচি পিছিয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনব্যবস্থার নিরাপত্তা ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এ মাসে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ৩০ সেপ্টেম্বর ভালভটির তৃতীয় দফার পরীক্ষা শেষ হয়। পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনে ১১ অক্টোবর চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহে প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের ফিজিকস টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘স্টেজ-সি’ বা ‘পাওয়ার স্টার্টআপে’ প্রবেশ করবে।