বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

আলমডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলায় ১৭ বছর পর রায়: দুই আসামির যাবজ্জীবন

চুয়াডাঙ্গার জেলা ও দায়রা জজ আদালত বুধবার দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলায় ১৭ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বুধবার চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম মামলার দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এর সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন আলমডাঙ্গার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন এবং একই গ্রামের মরহুম আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত ঝন্টুর বাবা জাহা বক্স মণ্ডল ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইসমাইল হোসেন এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়। এজাহারে বলা হয়, বাদী ও অভিযুক্ত ইসমাইল পান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ৭টার দিকে মোবাইল ফোনে ইসমাইলের ডাক পেয়ে টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঝন্টু। পরদিন গ্রামের একটি ধানখেতে তাঁর লাশ পাওয়ার খবর আসে। আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

তদন্তে ইসমাইল হোসেনের পাশাপাশি একই গ্রামের আবুল কালাম আজাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উঠে আসে। তদন্ত কর্মকর্তা ২০০৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। পরে দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।

রায় প্রসঙ্গে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আ স ম আব্দুর রউফ বলেন, ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন।