সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয়করণ করা প্রাথমিক শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা: আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, ২০১২ পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা থাকবেন ওপরে

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২ জুলাই সরকারের আপিল মঞ্জুর করে যে রায় দেন, তার ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ কপি রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে।

জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি–সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ গত ২ জুলাই আপিল মঞ্জুর করে এই রায় দেন। ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, এর ফলে প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা কেটে গেল।

জ্যেষ্ঠতা যেভাবে নির্ধারিত হবে

মুনতাসির উদ্দিন আহমেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আপিল বিভাগের রায়ে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের ওপরে জ্যেষ্ঠতা পাবেন। আর ২০১৩ সাল থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা হবে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের পরে। কারণ, জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগে অর্জিত চাকরির ৫০ শতাংশ ‘কার্যকর চাকরিকাল’ হিসেবে গণ্য হবে। এই সুবিধা তাঁদের পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট

আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়, যা ওই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর। এর মাধ্যমে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়। বিধিমালার ৯(১) বিধির একটি অংশ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট করেন জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট ওই অংশকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেন এবং ‘কার্যকর চাকুরিকাল’ বিবেচনায় রিট আবেদনকারীদের জ্যেষ্ঠতা ও সুবিধা দিতে নির্দেশ দেন। সরকারপক্ষ এর বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করলে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করেন এবং হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। পরে শুনানি শেষে আপিল মঞ্জুর করে রায় দেওয়া হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালের চাকরিকালকে ‘কার্যকর চাকুরিকাল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সরকার জ্যেষ্ঠতা গণনার যে সুযোগ দিয়েছে, তা সরকারের নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত, কোনো বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা নয়।

আপিলকারী পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার।