সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

চিকিৎসাশিক্ষায় ৬৩ শতাংশই ছাত্রী: মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও নার্সিংয়ে এগিয়ে মেয়েরা, চাকরিতে এখনো পিছিয়ে

শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ অনুযায়ী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ৬২ দশমিক ৭৯ শতাংশ নারী; তবে সরকারি চাকরিতে নারী চিকিৎসকের হার তুলনামূলক কম।

দেশে চিকিৎসাশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণে বড় পরিবর্তন এসেছে। সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোয় এখন যত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, তাঁদের প্রায় ৬৩ শতাংশই নারী। ডেন্টাল শিক্ষায়ও ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে বেশি, আর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষায় প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী নারী। তবে কর্মক্ষেত্রে, বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে নারী চিকিৎসকের হার এখনো কিছুটা কম।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ১০৯টি সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে (পরে আরও দুটির অনুমোদন হয়) ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থী ছিলেন ৫১ হাজার ৩১৩ জন। তাঁদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৭৯ শতাংশ ছাত্রী। সরকারি ৩৭টি মেডিক্যাল কলেজে নারী শিক্ষার্থী ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ, বেসরকারি ৭২টিতে ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজের বাইরে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অবশ্য ছাত্রীর হার ৪০ শতাংশের নিচে।

মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রীদের আধিক্য ৮ থেকে ১০ বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ওই ১০ বছরে দেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৮ হাজার ৭৭৭ জন এমবিবিএস পাস করেন; তাঁদের ২৬ হাজার ৯০১ জন, অর্থাৎ প্রায় ৫৫ শতাংশ ছিলেন নারী।

ডেন্টাল ও নার্সিংয়েও একই চিত্র। শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ অনুযায়ী, দেশের ৩৫টি ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটে শিক্ষার্থী প্রায় সাড়ে ৭ হাজার, যাঁদের ৬০ দশমিক ৮৫ শতাংশ নারী। ৪৭৫টি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ ও ইনস্টিটিউটে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রায় ৯০ শতাংশ ছাত্রী।

কর্মক্ষেত্রে অবশ্য এই অগ্রগতি পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না। ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএসে ৬ হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি); তাঁদের ৫৩ শতাংশ পুরুষ, ৪৭ শতাংশ নারী। অথচ ওই পরীক্ষার আবেদনকারীদের ৫৬ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী। ৪২তম (বিশেষ) বিসিএসে সুপারিশ করা ৪ হাজার চিকিৎসকের মধ্যে পুরুষ ছিলেন প্রায় ৫১ শতাংশ, নারী ৪৯ শতাংশ; আবেদনকারীদের প্রায় ৫৬ শতাংশ ছিলেন নারী।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এই তিন স্তরেই ছাত্রীর হার ৫০ শতাংশের বেশি হওয়া এবং বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনে মেয়েদের এগিয়ে থাকা চিকিৎসাশিক্ষায় তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পেছনে ভূমিকা রাখছে। এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি কর্মজীবনে নারীদের অংশগ্রহণ, পেশাগত উন্নতি ও নেতৃত্বের সুযোগ কতটা বাড়ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।