দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় বন্ধুর বাড়ির বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন। রোববার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আসাদুজ্জামান (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার চক সুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি ওই উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের সোনাপুকুর মাঝিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
যেভাবে ঘটে ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামের প্রয়াত আজিজুল মাস্টারের বাড়িতে নির্মাণকাজ করছিলেন কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেন (৫৩)। কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে আজিজুলের ছেলে আল রোমানের (২৫) সঙ্গে কয়েক দিন ধরে তাঁর বিরোধ চলছিল। এ ছাড়া বাড়ির পাশের একটি রাস্তার জমি নিয়ে প্রতিবেশী আসাদুজ্জামানের সঙ্গেও আল রোমানদের বিরোধ ছিল।
রোববার দুপুরে ফরতাজ হোসেন, আসাদুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন আল রোমানদের বাড়িতে যান। সেখানে আজিজুল মাস্টারের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। উভয় পক্ষের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়। এ সময় বাড়িতে যাওয়া লোকজন তাঁর ওপর চড়াও হন এবং সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে তিনি পাশের একটি ধানখেতে পড়ে যান, পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে এক শিক্ষককে মারধরের খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
পরিবারের বক্তব্য
আল রোমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রায় ১৩ বছর আগে তাঁর বাবা মারা যান। মনোরঞ্জন রায় ছিলেন তাঁর বাবার বন্ধু এবং বাবার মৃত্যুর পর থেকে তাঁদের দুই ভাইবোনের পড়াশোনাসহ নানা বিষয়ে খোঁজ রাখতেন। আল রোমানের অভিযোগ, বাড়িতে বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করেন ফরতাজ, তাঁকে পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়; কিন্তু ফরতাজ সেই টাকা অন্য শ্রমিকদের না দিয়ে নিজে রেখে দেন। পরে ফরতাজ শ্রমিকপ্রতি ৮০০ টাকা দাবি করলে তিনি আপত্তি জানান এবং ফরতাজকে বাদ দিয়ে অন্য শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফরতাজ রোববার তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ আল রোমানের। অভিযোগের বিষয়ে ফরতাজ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রয়াত বন্ধুর পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে চিরিরবন্দর থেকে ওই শিক্ষক সেখানে গিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির পর তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।