রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: টঙ্গীতে উদ্ধার মোটরসাইকেল তাঁরই বলে নিশ্চিত করল পিবিআই; এক তরুণীকে আটক করেছে নৌ পুলিশ

মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে ৫০ গজ দূরে পাওয়া মোটরসাইকেলটি ২০২২ সালে কেনা, এখনো নিবন্ধন হয়নি।

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি তাহসিফেরই বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর মধ্যে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক তরুণীকে আটক করেছে নৌ পুলিশ।

রোববার পিবিআইয়ের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গত বুধবার বিকেলে ঢাকার তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তার ৫০ গজ দূরে টঙ্গী মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়। আবু ইউসুফ জানান, তাহসিফ মিরপুর–২ নম্বরের একটি শোরুম থেকে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ২০২২ সালে তাহসিফ মোটরসাইকেলটি কেনেন এবং সেটির এখনো কোনো নিবন্ধন হয়নি। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে যে বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, সেই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। উত্তরখান থানায় করা হত্যা মামলায় দীপ এখন চার দিনের রিমান্ডে আছেন। মামলাটির তদন্ত করছে নৌ পুলিশ।

টঙ্গী নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ওই তরুণীকে আটক করা হয়। একই দিন মধ্যরাত থেকে রিমান্ডে থাকা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সূত্র জানায়, তাহসিফের পরিবারের অভিযোগের পর প্রথমে দীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তখন তিনি তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ও যাওয়ার কারণ সম্পর্কে নানা তথ্য দেন।

রেস্তোরাঁর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি রেস্তোরাঁ ও বারে তাহসিফ, দীপ ও ওই তরুণী পৌঁছান। তাঁরা তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে বেরিয়ে মোটরসাইকেলে চলে যান। মামলার অভিযুক্ত ও আটক ব্যক্তিদের কেউ দোষী সাব্যস্ত হননি; তদন্ত চলছে।