শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানীর বাজারে বেড়েছে আটা, ডিম ও মাছের দাম; বিপাকে ক্রেতা-ব্যবসায়ী

ঢাকা মহানগরের নয়াবাজার, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

ঢাকার বাজারে আটা, ডিম, মাছ, মুরগি, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতারা উভয়ই ভোগান্তিতে পড়েছেন। গত সপ্তাহের তুলনায় বিভিন্ন পণ্যের দামে উল্লম্ফন দেখা গেছে, বিশেষ করে সবজি, ডিম, মাছ, মুরগি, আটা ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। নয়াবাজারে খোলা আটা বর্তমানে প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে এক মাস আগে এর দাম ছিল ৪৫ টাকা। একই সাথে প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ছিল। দুই কেজির প্যাকেটজাত আটা ১৪০-১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০-১৭০ টাকা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দার দাম ২,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,৮০০ টাকা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে রুটিসহ বেকারি পণ্যের উপর। বেকারি ব্যবসায়ীরা গত শনিবার রুটি, কেক ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আপাতত তা স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন। তবে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে আগের দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে, ছুটির দিনে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সবজির দাম প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম জানান, বৃষ্টির কারণে বর্তমানে সবজি সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে, তবে নতুন সবজি বাজারে এলে কয়েকদিনের মধ্যে দাম দ্রুত কমে যেতে পারে। বর্তমানে কাঁচা মরিচ ১০০-১২০ টাকা, পটল ৭০-৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০-৯০ টাকা, গোল বেগুন ১১০-১৪০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ১৮০-২০০ টাকা এবং পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামেও ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গেছে; বর্তমানে এক ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ছয় মাস আগে ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ ডিমের দাম প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা দেড় মাস আগের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা বেশি। এছাড়া সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,২৫০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে। মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে। রুই মাছ ৪০০-৪২০ টাকা, কাতলা ৪২০-৪৪০ টাকা, পাঙ্গাশ ২৫০-৩০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, চিংড়ি ১,০০০-১,৩০০ টাকা, টেংরা প্রায় ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ইলিশ মাছের সরবরাহ বাড়ায় এর দাম কিছুটা কমেছে, আকারভেদে ৮৫০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নাজের হোসাইন বলেন, সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে চাল, আটা, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ও শুল্ক কমালেও এর সুফল খুচরা বাজারে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, কর কমানোর পরও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম কমেনি, বরং কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।