শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

নেত্রকোনার গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে শেরপুর যুক্তের প্রস্তাব, ব্যয় বাড়ছে ১,১৭২ কোটি টাকা

অগ্রগতি ৪২ শতাংশে থাকা প্রকল্পের ব্যয় ৮২ শতাংশ ও মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এলজিইডি; নতুন কাজ যুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

অর্ধেকের কম কাজ শেষ হওয়া ‘নেত্রকোনা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পে শেরপুর জেলাকে যুক্ত করে ব্যয় প্রায় ৮২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার কার্যপত্রের বরাতে শুক্রবার দৈনিক আমার দেশ এ খবর দিয়েছে। অন্য কোনো গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি, তাই এখানকার তথ্য একটি পত্রিকার প্রতিবেদননির্ভর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অনুমোদিত ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকার সঙ্গে আরও ১ হাজার ১৭২ কোটি টাকা যোগ করে প্রকল্পের মোট ব্যয় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব এসেছে, অর্থাৎ ব্যয় বাড়ছে ৮২.০৭ শতাংশ। মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। অথচ ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪২.০৯ শতাংশ; আর্থিক অগ্রগতি ৪১.৬৯ শতাংশ, যা প্রায় ৫৯৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৬ জুন একনেকে অনুমোদন পায়; মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন। ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম সংশোধনী অনুমোদিত হলেও তখন ব্যয় ও মেয়াদ বদলায়নি। এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে শেরপুরকে যুক্ত করা হচ্ছে।

গ্রাম সড়ক প্রায় দ্বিগুণ

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন গ্রাম সড়কে। বিটুমিনাস কার্পেটিং পদ্ধতির সড়ক ৩৯৭.৭৭ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৮২০.৬ কিলোমিটার করার প্রস্তাব রয়েছে; শুধু এ খাতেই ব্যয় ৫৬১ কোটি ২৫ লাখ থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা হবে। উপজেলা সড়ক ১৭.৯৪ থেকে ৩২.৩৪ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ১১৯.৮১ থেকে ১৪৯.৯ কিলোমিটার এবং আরসিসি সড়ক ১২৫.৫৮ থেকে ২০৫.২ কিলোমিটার করার কথা বলা হয়েছে। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের আওতাও ২৬.৭ থেকে ১৬০.৮ কিলোমিটারে বাড়ছে। পাশাপাশি ২ হাজার ৭৮৪ মিটার সেতু, ১ হাজার ৮৫১ মিটার বক্স কালভার্ট ও ২১ হাজার ৪৫০ মিটার আরসিসি ইউ-ড্রেন নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে।

এলজিইডির যুক্তি, কমিশনের প্রশ্ন

কার্যপত্রে এলজিইডি বলেছে, সড়ক নেটওয়ার্কের বিচ্ছিন্ন অংশ জোড়া লাগানো, স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী নতুন সড়ক যোগ করা এবং শেরপুরকে একই প্রকল্পে আনতে সংশোধন দরকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ পিছিয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

তবে পরিকল্পনা কমিশন বাস্তবায়নের এ পর্যায়ে নতুন কাজ যুক্ত করার যৌক্তিকতা এবং বাড়তি সময়ে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা স্পষ্ট করতে বলেছে। সমাপ্ত, চলমান, বাতিল ও নতুন কাজের আলাদা তালিকা সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) যুক্ত করা, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধি মেনে ক্রয় পরিকল্পনা নতুন করে সাজানো, এলজিইডির অন্য প্রকল্পের সঙ্গে কাজের পুনরাবৃত্তি এড়ানো এবং নির্মিত অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। এসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একনেকে তোলা হবে বলে কমিশন জানিয়েছে।