পশ্চিম তীরে গাজার মতো যুদ্ধ শুরুর পক্ষে ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ পশ্চিম তীরে সহিংসতা বাড়াতে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন।
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ মন্তব্য করেছেন যে, গাজায় ইসরাইল যা করেছে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরেও একই কাজ করা উচিত এবং সেখানে যুদ্ধ শুরু করা দরকার। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পশ্চিম তীরকে ‘জুদিয়া ও সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন যে, সেখানে ‘কোনো সন্ত্রাসী অবকাঠামো, কোনো সন্ত্রাসী, কোনো অস্ত্র, কোনো সুড়ঙ্গ’ রাখা যাবে না।
স্মোতরিচের এই উসকানিমূলক মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরুর পর পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। চলতি বছরে এই সহিংসতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গত জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ দিক পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৩৩০টির বেশি হামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রতিদিন গড়ে ছয়টি হামলার সমান।
জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে যে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সুরক্ষা পাওয়া এসব অবৈধ বসতি স্থাপনকারী পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানো, বাড়িঘর অবরোধ করাসহ বিভিন্ন ধরনের সংঘবদ্ধ সহিংসতা চালিয়েছে।
স্মোতরিচের বক্তব্যের পর গতকাল ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইলি মন্ত্রীর এই মন্তব্য দেশটির সরকারি নীতিরই অংশ। এই নীতির মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের হত্যা, তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা, জমি দখল করা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার চেষ্টা।
ফিলিস্তিনি মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, ইসরাইলি কর্মকর্তাদের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব থাকলে ইসরাইল সরকার নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও উৎসাহিত হবে। এতে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। স্মোতরিচের এমন বক্তব্যের ঠিক একই সময়ে ইসরাইল সরকার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘সুক্কত’ উপলক্ষে পশ্চিম তীরজুড়ে সামরিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর বাড়তি বিধিনিষেধ থাকবে।