হামের টিকা দেওয়ার পরও ২৭ শতাংশ শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠেনি—একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের টিকা ঠিকমতো কাজে আসছে না; টিকা ও টিকাদানব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে।
গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হাম-রুবেলার জাতীয় টিকা ক্যাম্পেইনের পর দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে হাম প্রতিরোধের পরিস্থিতি জানতে প্রথমবারের মতো এই গবেষণা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ও জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১২ জন গবেষক ও কর্মকর্তা এটি করেছেন; নেতৃত্বে ছিল আইইডিসিআর।
এ বছর মার্চে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুর জন্য দেশজুড়ে হাম-রুবেলার টিকা ক্যাম্পেইন চলে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার তিন-চার সপ্তাহ পর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু পাঁচ মাস পরও সংক্রমণ থামেনি।
সেপ্টেম্বরে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার ছয়টি উপশহর ও গ্রাম এলাকার ৯ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩০৯ শিশুর রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। টিকা কার্ড দেখে ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ২০৩ জনের বা ৬৫.৭ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ২১ জনের (৬.৮ শতাংশ) ফল ‘সীমারেখায়’ ছিল, অর্থাৎ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বা হয়নি—কোনোটিই নিশ্চিত করে বলা যায়নি। বাকি ৮৫ জনের শরীরে কোনো অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়নি। ৯ থেকে ১৪ মাস বয়সীদের তুলনায় ১৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সীদের মধ্যে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠার প্রবণতা বেশি।
গবেষকেরা বলছেন, এক ডোজে যতটা প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠে, দুই বা তিন ডোজে তার চেয়ে বেশি হয়। তবে সংক্রমণ থামাতে যতটা প্রতিরোধক্ষমতা দরকার, শিশুদের মধ্যে তার চেয়ে অনেক কম দেখা যাচ্ছে। টিকা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) ব্যবহৃত টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত হলেও দেশে এসব টিকার মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেই।
টিকাবিশেষজ্ঞ তাজুল এ বারি বলেন, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহনের ধাপে হেরফের হলে টিকার কার্যকারিতা কমতে পারে। অতিমাত্রায় অপুষ্ট শিশুর শরীরে টিকা কম কার্যকর হয়, আর মায়ের বুকের দুধ খাওয়া শিশুর শরীরে বেশি কার্যকর বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, কোন কারণে টিকা কার্যকর হচ্ছে না, তা অনুসন্ধান করা জরুরি।