বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের বাড়তি চাপ সামলাতে রিজার্ভ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ডলারের দাম বাড়ায় ব্যাংকগুলোর কাছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ওই দিন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৪ টাকা থেকে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা। সেদিন ব্যাংকগুলোর মোট ডলারের চাহিদা ছিল প্রায় ৮০ কোটি ডলার। এর আগে ১৯ অক্টোবরও বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক দুই কোটি ডলার বিক্রি করেছিল। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একাধিকবার বাজারে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, মাসের শেষ দিকে প্রবাসী আয় তুলনামূলক কম আসে এবং বড় অঙ্কের বৈদেশিক অর্থ পরিশোধের দায় থাকে। এ কারণে ডলারের বাজারে চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের বৈদেশিক পেমেন্ট বাড়লে ব্যাংকগুলোর ডলারের প্রয়োজন বাড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাকে এই চাপের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করেন এবং তাঁদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সেখানকার শ্রমবাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কর্মসংস্থান কমে যাওয়া, কর্মঘণ্টা হ্রাস বা নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে রেমিট্যান্স, আমদানি ব্যয় ও লেনদেনের ভারসাম্যে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।