রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সাংবাদিক মিনাল ইসলামকে ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ দাবি তোলেন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন।
সভায় তিনি বলেন, মিনাল অপরাধী হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তিনি অপরাধী না হলে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত। গোলাম মোস্তফা মামুনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন মাদক কারবার নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় এক মাদক কারবারির সঙ্গে মিনালের বিরোধ চলছিল এবং সেই জেরেই তাঁকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি মিনালকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে চান। গ্রেপ্তারের স্থান জানানোর পর তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত হবে এবং এ ক্ষেত্রে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ৩ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের দিন সন্ধ্যায় কাশিয়াডাঙ্গা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিনাল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাশিয়াডাঙ্গা থানা-পুলিশের ওই অভিযানে তাঁর কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। ঘটনার সময়ের একটি ভিডিওতে সাদাপোশাকের কয়েকজনকে মিনালকে ধরে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁকে সিসি ক্যামেরার সামনে তল্লাশির অনুরোধ জানাতে শোনা যায়।
আরএমপির মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হেরোইনসহ মিনালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপরও কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে দেখা হবে।
মিনাল ইসলামের বাড়ি গোদাগাড়ী পৌরসভার রামনগর লালবাগ মহল্লায়। তিনি নিজের ফেসবুক পেজে গোদাগাড়ীর বিভিন্ন খবর প্রকাশ করতেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে এখনো আদালতে বা প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।