২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর, জিএমটি সময় দুপুর ১টার কিছু আগে, ওয়াশিংটন ও লুইজিয়ানায় অবস্থিত লিগোর দুটি ডিটেক্টরে একই সঙ্গে শনাক্ত হয় এক শক্তিশালী মহাজাগতিক তরঙ্গ—একটি গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ।
মাত্র ০.১ সেকেন্ড স্থায়ী এই তরঙ্গের নাম দেওয়া হয় GW231123। এটি আসে দু’টি ব্ল্যাক হোলের মহা-সংঘর্ষ থেকে।
ব্ল্যাক হোল দুটি পৃথকভাবে সূর্যের ভরের প্রায় ১০০ গুণ ও ১৪০ গুণ সমান ছিল। সংঘর্ষের পর তারা একীভূত হয়ে তৈরি করে একটি নতুন ব্ল্যাক হোল, যার ভর সূর্যের তুলনায় ২৬৫ গুণেরও বেশি।
এর ফলে এটি হয়ে উঠল এ পর্যন্ত শনাক্ত সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হোল মিশ্রণ। এর আগে, ২০১৯ সালের মে মাসে GW190521 নামে আরেকটি সংঘর্ষ শনাক্ত হয়েছিল, যার ভর ছিল ১৪০ সূর্যের সমান।
ব্ল্যাক হোল অদৃশ্য—তারা আলো পর্যন্ত শোষণ করে নেয়। তাই তাদের সংঘর্ষ দৃশ্যমান নয়। বিজ্ঞানীরা এ ধরনের ঘটনার অস্তিত্ব টের পান কেবলমাত্র গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ মেপে।
লিগো, ইউরোপের Virgo এবং জাপানের KAGRA অবজারভেটরিগুলো মিলেই এমন তরঙ্গ শনাক্তের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি ব্ল্যাক হোল সংঘর্ষ শনাক্ত করা গেছে।
বিজ্ঞানীরা কী শিখলেন?
কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লিগো সায়েন্টিফিক কলাবোরেশনের সদস্য মার্ক হানাম বলেন—
“এই আবিষ্কার আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে যে, ব্ল্যাক হোলগুলো একাধিকবার সংঘর্ষ ও একীভূত হয়ে ক্রমে অনেক বড় ব্ল্যাক হোলে রূপ নিতে পারে। এত বড় ভরের ব্ল্যাক হোল সম্ভবত তারকার মৃত্যু থেকে সরাসরি তৈরি হয়নি, বরং ধারাবাহিক সংঘর্ষের মাধ্যমেই এর জন্ম।”
পৃথিবীর জন্য কোনো ঝুঁকি আছে কি?
বিজ্ঞানীরা আশ্বস্ত করেছেন, এ সংঘর্ষ পৃথিবী বা আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির জন্য একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। ঘটনাটি ঘটেছিল কয়েক মিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে—অর্থাৎ এটি ঘটেছে কোটি কোটি বছর আগে।
এই আবিষ্কার শুধু মহাবিশ্বের রহস্যই উন্মোচন করেনি, বরং ব্ল্যাক হোলের উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে মানবজাতির ধারণাকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে।