ইসলামের দৃষ্টিতে শুক্রবার বা জুমা সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন দিন। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-জুমা (৬২:৯) এ বলা হয়েছে— “হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন জুমার দিন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ব্যবসাবাণিজ্য পরিত্যাগ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বোঝ।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘শুক্রবার হচ্ছে অন্যান্য দিনের তুলনায় শ্রেষ্ঠ দিন। এদিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এদিনে তার মৃত্যু হয়েছে, এবং এদিনেই শিঙ্গা ফুঁকানো ও পুনরুত্থান ঘটবে।’’ (সহীহ মুসলিম, ৮৫৪)
হাদিসে আরও বর্ণিত: “যে ব্যক্তি জুমা দিনের গোসল করবে, উত্তম পোশাক পরবে, যথাসময়ে মসজিদে গিয়ে ইমামের নিকট বসে খুতবা মনোযোগসহকারে শুনবে এবং অপ্রয়োজনীয় কথা বলবে না, তার গত জুমা থেকে এবারের জুমা পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ছোট ছোট গুনাহ ক্ষমা হয়ে যাবে।” (সহীহ বুখারি, ৮৮৩)
শুক্রবার ভোরবেলা বেশি বেশি দরুদ পাঠের উৎসাহ দেয়া হয়েছে, যেমন: “তোমরা আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করবে শুক্রবারে।” (সুনানে আবু দাউদ, ১৫৩১)
শুক্রবারের করণীয়:
- গোসল করা (সহীহ বুখারি ৮৮৩)
- পরিচ্ছন্ন, সুন্দর পোশাক পরা (আবু দাউদ ৩৪১)
- মিসওয়াক ব্যবহার ও আতর ব্যবহার (সহীহ মুসলিম ৮৫১)
- সময়মত মসজিদে এসে খুতবা মনোযোগসহকারে শোনা (সহীহ বুখারি ৮৮৩)
- সূরা কাহাফ পাঠ করা (সুনানে দারিমি ৩৩৮৭)
- বিশেষভাবে দোয়া ও ইস্তিগফারের চেষ্টা করা, কারণ এক বিশেষ মুহূর্তে প্রত্যেক দোয়া কবুল হয় (সহীহ মুসলিম ৮৫২)
- অধিক বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করা (আবু দাউদ ১৫৩১)
- গরীব, অসহায় এবং পরিবার-পরিজনকে সহায়তা ও সদাচরণ
শুক্রবারে হারাম বা ক্ষতিকর কাজ এবং অন্যায় ত্যাগ করা অত্যাবশ্যক। ইসলামিক দৃষ্টিতে প্রতিটি মুসলিমের উচিত—এই মহান দিনে আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর স্মরণ, এবং মানবতার সেবায় নিবেদিত থাকা।
রাসূল (সা.) বলেছেন, “শুক্রবারে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়—তা অবশ্যই কবুল হয়।” (সহীহ বুখারি, ৯৩৫)
সবশেষে, জুমা শুধুমাত্র নামাজ বা খুতবায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এ দিন সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে প্রত্যেক মুসলিমের উচিত—শুক্রবারকে যথাযথ গুরুত্ব ও আমলে পালন করা।