পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় বিষাক্ত রাসায়নিকের সঙ্গে জেলি ও সয়াবিন তেল মিশিয়ে কৃত্রিম উপায়ে নকল দুধ তৈরির দায়ে একটি কারখানার মালিক ও তাঁর কর্মচারীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে এই দণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ কারখানার মালিক আবুল বাশারকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন; জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড। কারখানার কর্মচারী সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯–এর ৫২ ধারায় এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
অভিযানে কারখানা থেকে আনুমানিক চার লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার ৭০০ লিটার জেলি, ২০০ লিটার সয়াবিন তেল ও ৩২০ লিটার নকল দুধ জব্দ করা হয়। জব্দ করা এসব পণ্য সবার সামনে ধ্বংস করা হয়। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পাবনা কার্যালয়ের গোপন তথ্য ও সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল করিম, এনএসআইয়ের প্রতিনিধি এবং থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে দুধের ব্যবসার আড়ালে নিজের বাড়িতে বিষাক্ত রাসায়নিকের সঙ্গে জেলি ও সয়াবিন তেল মিশিয়ে কৃত্রিম দুধ তৈরি করে আসছিলেন। এসব নকল দুধ তিনি বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে অসাধু উপায়ে তিনি বড় অঙ্কের মুনাফা করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।