ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা মঙ্গলবার সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরায় হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উপসাগরীয় উপকূলের ওই স্থাপনায় আগুন ধরেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এই হামলার কথা নিশ্চিত করেনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক খবরে এক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, রাস তানুরা তেল টার্মিনালের কাছে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার রিয়াদে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথি গোষ্ঠীর ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো হয়েছে। ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রাজধানীর একটি ভবন, একটি নির্মাণ প্রকল্প ও একটি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে। কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা মুখপাত্র জানাননি। এর আগে একই দিনে পূর্বাঞ্চলের দিকে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দক্ষিণাঞ্চলকে লক্ষ্য করে আসা চারটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানান ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি। ভোর ৩টার দিকে পূর্বাঞ্চল ও আল-খারজের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল, পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
সৌদি–সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী জানিয়েছে, ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামের অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় তারা হুথি অবস্থানের বিরুদ্ধে ১ হাজার ২৭৬টি অভিযান চালিয়েছে। বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলির দাবি, এতে প্রায় ৩৮২ হুথি কমান্ডার ও যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে; তবে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা তিনি বলেননি। এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে রিয়াদ সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বাড়িয়েছে হুথিরা। গোষ্ঠীটি লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি তেল রপ্তানির ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছে। সৌদি আরবের প্রায় সব তেল রপ্তানি যায় উপসাগরের রাস তানুরা ও লোহিত সাগরের ইয়াম্বু বন্দর দিয়ে।
পরিস্থিতির অবনতিতে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে সৌদি আরব ছাড়তে বলেছে। ২৩ অক্টোবর প্রথম জারি করা ওই নির্দেশনায় বিমানবন্দরে হামলা, আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। সোমবার তেহরানে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানের উপস্থিতিতে উত্তেজনা কমানোর আলোচনা হয়। সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী থাকায় এ অঞ্চলের পরিস্থিতি প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্যও উদ্বেগের।