যুক্তরাষ্ট্র এই সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক। শুক্রবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই সপ্তাহান্তে হামলা হতে পারে? অবশ্যই।” আরব নিউজ ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পডকাস্ট উপস্থাপক মারিও নাওফালকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারের সময় বারাক উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে ছিলেন।
বারাক সিরিয়া বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতও। আরব নিউজ লিখেছে, ইরান প্রসঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির জন্য ‘উন্মুক্ত’ এবং কয়েক মাস ধরে আলোচনার টেবিলে আছেন। তবে “আপনি যদি বিশ্বকে, আমাদের মিত্রদের, উপসাগরকে হুমকি দিতে থাকেন, তার পরিণতি হবে। সেই পরিণতি শাসন পরিবর্তন নয়,” বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘শাসন পরিবর্তনের পরের দিনের পরিস্থিতি কী হবে’, সেটাই বড় প্রশ্ন। আনাদোলুর বরাতে তিনি আরও বলেন, লক্ষ্য হলো ‘পুনর্ভারসাম্য’, যাতে জিম্মি পরিস্থিতি ও হুমকি না থাকে।
বারাকের মন্তব্য সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ট্রাম্পকে বিস্মিত দেখা যায়। আনাদোলুর খবর অনুযায়ী, তিনি বলেন, “তিনি বেশ ক্ষমতাধর মানুষ, আমার ধারণা। তাহলে আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।” আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি হামলা পুনরায় শুরুর ব্যাপারে খোলামেলা মনোভাব দেখালেও আগে বলেছিলেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে তা হবে না।
বারাকের শাসন পরিবর্তন না চাওয়ার বক্তব্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আরব নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইসরায়েলে নির্বাচনের মুখে নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাতের অঙ্গীকার করেছেন। গত বছর থেকে ইরানের ওপর দুটি বড় বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করে, যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক সত্ত্বেও তার নিষ্পত্তি হয়নি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন হামলার পরিকল্পনা আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপসাগরের তেল রপ্তানি ও প্রবাসী কর্মসংস্থানের ওপর এ সংঘাতের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশেও উদ্বেগ রয়েছে।