রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ গত সোমবার শেষ হয়েছে। কিন্তু নতুন নির্বাচন আয়োজন নিয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনা বা দৃশ্যমান প্রস্তুতি দেখা যায়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হলেও রাকসুর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো বিধান নেই। সে কারণেই বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাকসু ৩৫ বছর পর হয়েছে, আমরাও চাই রাকসু হোক। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তখনই এর আয়োজন করা হবে।’
৩৫ বছর পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সহসভাপতি (ভিপি) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদসহ ২০টি পদে জয় পায়। নির্বাচনের ১০ দিন পর, ২৬ অক্টোবর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। সেই হিসাবে গত সোমবার মেয়াদ শেষ হয়।
রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, উপাচার্য পরবর্তী নির্বাচন দেবেন বলে তাঁদের জানিয়েছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, গতবার শিক্ষার্থীরা চারবার আন্দোলন করে নির্বাচন আদায় করেছিলেন; এবার যেন তা করতে না হয়, সে কথা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ‘এরপরও যদি কোনো তালবাহানা করে, তাহলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা রাকসু আদায় করে নেব’—বলেন তিনি।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, পরবর্তী রাকসু অবশ্যই আদায় করে নিতে হবে। প্রশাসন কোনো টালবাহানা ছাড়াই নির্বাচন দেবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করতে চান। এজিএস সালমান সাব্বির জানান, পরবর্তী নির্বাচন ও নতুন সংসদের পথ সুগম করতে সর্বশেষ অধিবেশনে কোষাধ্যক্ষকে গঠনতন্ত্র সংস্কার ও নির্বাচনি তফসিল প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁরা কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ আলভি বলেন, রাকসুর মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন নিয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই, এতে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ‘রাকসু কোনো দয়া বা দান নয়, এটা আমাদের অধিকার।’
১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র সংসদ। সামরিক শাসনের কারণে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ১৯৬২ সালে নাম বদলে ‘রাকসু’ করা হয়। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৪টি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল।