সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

ত্রিশালে ৪৮ কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা: জরাজীর্ণ ভবন, ওষুধের ঘাটতি, সেবা পাচ্ছে না সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১২ ইউনিয়নের ৪৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকের বেশির ভাগেরই ভবন ঝুঁকিপূর্ণ; ওষুধ ও চিকিৎসকের অভাবে রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ৪৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকের বেশির ভাগই জরাজীর্ণ ভবন, ওষুধের ঘাটতি ও চিকিৎসকের অভাবে ঠিকমতো সেবা দিতে পারছে না। এতে ১২টি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১২টি ইউনিয়নে জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক সেবা পৌঁছে দিতে ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে বিভিন্ন ধাপে এই ৪৮টি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ক্লিনিক থেকে গড়ে সাত হাজার মানুষের মা ও শিশুস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার-পরিকল্পনা, টিকাদান, পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য ও স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার কথা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বহু ভবনের ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে মেঝে ভিজে যায়। কোনো কোনো ভবনের দরজা-জানালা অনেক আগেই ভেঙে পড়েছে। বেশ কিছু ক্লিনিকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই; যেখানে আছে, সেখানেও ভবনের অবস্থার কারণে ফ্যান লাগানো যাচ্ছে না। অধিকাংশ ক্লিনিকে খাবার পানির ব্যবস্থা নেই, শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী। বসার জায়গা কম থাকায় অসুস্থ মানুষ ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সরকারিভাবে সরবরাহ করা ওষুধের কার্টনও স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। মঠবাড়ি, বৈলর, কাঁঠাল, কানিহারী ও রামপুর ইউনিয়নে ক্লিনিকের সংখ্যা বেশি, কিন্তু বহু বছর সংস্কার না হওয়ায় সেগুলোর অবস্থাও খারাপ।

কানিহারীর বালিদিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে আসা মারজিয়া খাতুন বলেন, ছাদ থেকে সিমেন্টের টুকরা খসে গায়ে পড়ে, বৃষ্টি হলে দাঁড়ানোর উপায় থাকে না। গ্যাস্ট্রিক ও প্যারাসিটামল ছাড়া বেশির ভাগ সময় অন্য ওষুধ মেলে না বলে তাঁকে ধার করে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হয়। মঠবাড়ি ইউনিয়নে চিকিৎসা নিতে আসা মুস্তাফিজ বলেন, সেখানে বসার ভালো জায়গা নেই, শৌচাগার এতটাই নোংরা যে ব্যবহার করা যায় না; চিকিৎসক আসেন সপ্তাহে একদিন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, তাঁদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি ও সময়মতো ওষুধ সরবরাহ নেই বলে রোগীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। পরিচ্ছন্নতার জন্য আলাদা কেউ না থাকায় ক্লিনিকের তালা খোলা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যন্ত সবই তাঁদের করতে হয়।

ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল বারী বলেন, ক্লিনিকের ওষুধ ট্রাস্টের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়; কার্টনে পাওয়া বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী বরাদ্দ আসার আগ পর্যন্ত কিছুটা ঘাটতি থাকে। তাঁর ভাষ্য, ৪৮টি ক্লিনিকের মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩২টির ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা ও তালিকা পাঠানো হয়েছে। সংস্কারের বরাদ্দ উপজেলা পর্যায়ে আসে না, সরাসরি স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে যায় বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি চার-পাঁচবার প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।