বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

ঈশ্বরদীর পাকশীতে জমি নিয়ে বিরোধে দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা-লুটপাট, খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার; প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

পাবনার ঈশ্বরদীতে ৫০-৬০ জনের একটি দল হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ; পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে, অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও গরু লুটসহ প্রায় ২২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বসতভিটা হারিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন দুই পরিবার।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল কাঁঠালতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একই দিন রাতে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলে ধরেন এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন। ভুক্তভোগীরা হলেন ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলাম শান্ত ও তাঁর ভাই শিহাব উদ্দিন। তাঁরা একই এলাকার খোকন হোসেন, রবি হোসেন, মতিয়ার রহমান, আবুল খায়ের, সিরাজুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন।

জামিরুল ইসলামের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে আদালতের কোনো আদেশ ছাড়াই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং তাঁদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে। ঘটনার পর ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে জানান তাঁরা। বর্তমানে পরিবার দুটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খোকন হোসেন। তাঁর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের বাপ-দাদার ভিটা জবরদখল করা হয়েছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও প্রতিপক্ষ তা মানেনি বলে তিনি জানান।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই প্রধান অভিযুক্ত খোকন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।