আগামী ৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাত বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই দেখা যাবে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য সুপার মুন। এ সময় চাঁদ পৃথিবীর কক্ষপথে পেরিজি অবস্থানে থাকবে, অর্থাৎ পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম বিন্দুতে ঘুরবে। ফলে এটি সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং প্রায় ৩০ শতাংশ উজ্জ্বল দেখা যাবে।
বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন হবে না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে খালি চোখেই সহজে উপভোগ করা যাবে এ অনিন্দ্য সুন্দর চাঁদ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল বা শহরের বাইরে যেখানে আলোকদূষণ কম, সেখান থেকে সুপার মুন আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর দেখা যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপার মুন কেবল নান্দনিকতার জন্য নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও তা গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদের আলো সমুদ্রের জোয়ার-ভাটায় প্রভাব ফেলে। তাই জেলেদের জন্যও এই সময়টা সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ফটোগ্রাফার, জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমী এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি হবে এক বিরল সুযোগ। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সুপার মুনকে কেন্দ্র করে বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জ্যোতির্বিদরা মনে করছেন, সুপার মুন সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয় এবং মানুষকে আকাশ পর্যবেক্ষণে উৎসাহিত করে। ফলে আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের রাতের আকাশ ভরে উঠবে হাজারো মানুষের কৌতূহল, ক্যামেরার ঝলকানি আর মুগ্ধ দৃষ্টিতে।