ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপনের প্রস্তাব দিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার
১১তম আয়ুর্বেদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দীনেশ ত্রিবেদী এই প্রস্তাবনা দেন।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী একটি ‘যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক ও পেশাদার বিনিময় বৃদ্ধির উপর জোর দেন।
এই প্রস্তাবনাটি গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে (আইজিসিসি) আয়োজিত ১১তম আয়ুর্বেদ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেন। হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সামগ্রিক কল্যাণ ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি যৌথ গবেষণা কেন্দ্র আয়ুর্বেদ ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৃহত্তর একাডেমিক ও পেশাদার জ্ঞান বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করতে পারে।
ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশনের অধীনে আইজিসিসি ‘সুস্থ আগামীর জন্য আয়ুর্বেদ’ প্রতিপাদ্য এর আলোকে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে একাডেমিক আলোচনা, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল। আইজিসিসির পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি (এওয়াইইউএসএইচ) প্রসারে ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি আয়ুর্বেদ ও ইউনানি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ রাশিদুজ্জামান খান, প্রাচীর (পিআরএসিএইচআই) সদস্যদের প্রতিনিধি ড. মুখলেসুর রহমান, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদ কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। নূর-মজিদ আয়ুর্বেদ কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মো: জাকির হোসেন, হামদর্দ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আয়ুর্বেদ মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বাবুল আক্তার এবং ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়ার পরিচালনায় একটি একাডেমিক কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশে আয়ুর্বেদ অধ্যয়নরত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয় বাংলাদেশি শিল্পী শাহিন সোবহানা সুরভীর উল দিয়ে তৈরি গণপতি ট্যাপেস্ট্রি প্রতীকীভাবে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। এরপর শাস্ত্রীয় ও বাংলা খেয়ালশিল্পী এবং সঙ্গীতশিক্ষক রঞ্জন চন্দ্র সরকার ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও বাংলা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পরিবেশনা শেষে শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান এবং অংশগ্রহণকারী সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ, হামদর্দ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ এবং আয়ুর্বেদ কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।