বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় বেরোনো গ্যাসের আগুন ১৪ ঘণ্টায়ও নেভেনি, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি; বাপেক্সের দলকে খবর দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় গভীর নলকূপ খননের সময় মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসা ‘গ্যাসের’ আগুন ১৪ ঘণ্টায়ও নেভানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার পর আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। রাতের অন্ধকারে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন দেখতে ইনানী মেরিন ড্রাইভ ও ছোট ব্রিজ এলাকায় লোকজন ভিড় করেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকে চেষ্টা চালায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ; তবে রাত সাড়ে ৯টায়ও তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বেলা তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়।

আগুন বিদ্যুতের তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ৩৩ কেভি লাইনের মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পর্যবেক্ষণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের একটি দল রাখা হয়েছে। ভূগর্ভে জ্বালানি গ্যাসের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ঢাকা থেকে দুই সদস্যের একটি দল সন্ধ্যার পর বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছেছে এবং রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করবে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শামশুল আলম বলেন, ১০–১৫ দিন আগে ওই বাড়ির কিছু জমি কিনেছেন ঢাকার এক ব্যক্তি। সেখানে একটি গভীর নলকূপ খনন করে ৬০০–৭০০ ফুট পর্যন্ত গিয়েও পানি না পাওয়ায় সোমবার পাশের আরেক জায়গায় নতুন করে খনন শুরু হয়। মঙ্গলবার সকালে সেই নলকূপ থেকেই গ্যাসের আগুন বেরিয়ে আসে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, এলাকায় গ্যাসের কোনো পাইপলাইন নেই; প্রাথমিক ধারণা, ভূগর্ভে গ্যাসের উপস্থিতির কারণেই এমন হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে বসতবাড়ি বা আবাসিক হোটেল–রিসোর্ট না থাকায় তাৎক্ষণিক প্রাণহানির আশঙ্কা কম বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।