শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

শরিকদের সঙ্গে সংলাপের প্রস্তুতি বিএনপির, ডাক পাচ্ছে না ১১ দলীয় জোট

যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে নভেম্বর বা ডিসেম্বরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে পদ্মা টাইমস।

রাজনৈতিক দূরত্ব কমাতে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। পদ্মা টাইমসের শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে দলীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ সংলাপ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পরিকল্পনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট বা অন্য কোনো দলকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা নেই।

সংলাপের এই পরিকল্পনার খবর এখন পর্যন্ত একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেই পাওয়া গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, দিনক্ষণও চূড়ান্ত হয়নি।

কী নিয়ে আলোচনা

সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে যুগপৎভাবে মাঠে থাকা দল ও জোটগুলোর সঙ্গে আলোচনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে মতপার্থক্য এবং নির্বাচনের আগে-পরে অবস্থানের ভিন্নতায় যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনতে চায় দলটি। আলোচ্যসূচিতে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা, সংবিধান সংশোধন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য রূপরেখা গুরুত্ব পেতে পারে। জাতীয় সংকটে বিরোধী শক্তিগুলোর করণীয়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গও উঠতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তুতি সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি জানিয়েছেন, এখন দেশের বাইরে আছেন; ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিটি দল থেকে এক থেকে তিনজন করে মোট ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকে ডাকার পরিকল্পনা রয়েছে। ভেন্যু হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন যমুনা অথবা গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় বিবেচনায় আছে।

শরিকদের অসন্তোষ

উদ্যোগের পেছনে পুরোনো মিত্রদের অসন্তোষও কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন আন্দোলনে পাশে থাকার পরও প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না পাওয়ার আক্ষেপ আছে শরিকদের একাংশের; সরকার গঠনের পর নতুন মিত্রদের কয়েকজন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেও পুরোনো শরিকদের অনেকে নিজেদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি বলে মনে করছেন।

এর আগে গত ২০ জুলাই যমুনায় শরিক নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে বসেছিলেন তারেক রহমান। বাংলা ট্রিবিউন সে সময় জানিয়েছিল, নির্বাচনের পর ব্যস্ততার কারণে শরিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বসা হয়নি বলে ‘অভিমান ভাঙাতে’ ওই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। পদ্মা টাইমসের তথ্যমতে, সেদিন যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে শরিকদের একাংশের অসন্তোষ রয়ে গেছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, অতীতের আন্দোলনে শরিকেরা বিএনপির সঙ্গে থেকে হামলা-মামলার শিকার হয়েছে; গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার জন্য তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা দরকার। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক উদ্যোগকে ইতিবাচক বললেও দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ফারুক রহমান সংলাপকে স্বাগত জানিয়ে শরিকদের যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন এবং নির্বাচনের আগে-পরে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের মুখপাত্র এস এম শাহাদাত জানিয়েছেন, আলোচনায় তাঁরা জুলাই সনদের যুক্তিসংগত প্রস্তাব এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য সংবিধান সংশোধনের বিষয়গুলো তুলতে চান।

সংলাপে আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।