শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

‘স্নাইপার’ মন্তব্যে বিরোধী দলের উসকানি দেখছেন রাশেদ খাঁন, জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ও ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী দাবি করেছেন, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মিলে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে; আঁতাতের অভিযোগ আগেই নাকচ করেছে জামায়াত।

প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরে ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ নিয়ে এক যুবকের মন্তব্যের পেছনে বিরোধী দলের উসকানি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা বলছেন এবং জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মিলে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

পদ্মা টাইমস ও ইত্তেফাক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপরাইল আবুবকর বিশ্বাস মকছেদ আলী কলেজে বিনা মূল্যের চিকিৎসা শিবির উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। একই দিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি বিরোধী দলকে দায়ী করেন।

‘উসকানি খতিয়ে দেখা দরকার’

রাশেদ খাঁনের দাবি, বিরোধী দলের উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিতর্কিত অবস্থানই ওই যুবককে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এমন মন্তব্য করতে উৎসাহ দিয়ে থাকতে পারে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, বিরোধী নেতাদের ‘উচ্ছৃঙ্খল’ বক্তব্য ও ‘আগ্রাসী’ আচরণের সুযোগ নিচ্ছে ‘পতিত অপশক্তি’, আর ‘একটি মাত্র স্নাইপার দরকার ছিল’ মন্তব্যটি তারই উদাহরণ।

পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের জনসভা বা টকশোতে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে আলোচনা নেই; বরং গণ-অভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় জামায়াতের আমির আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, জামায়াত ও এনসিপি এমন বয়ান দাঁড় করাচ্ছে যেন আট মাসের বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের ১৬ বছরকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ওই মন্তব্যের ঘটনায় রাজশাহীর এক কলেজছাত্র ও তাঁর বাবাকে ডিবির হেফাজতে নেওয়ার খবর এর আগে প্রকাশিত হয়েছে।

‘১৯৮৬ ও ১৯৯৬-এর মতো’

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল, এখন আবার দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ইত্তেফাকের উদ্ধৃতি অনুযায়ী তিনি বলেন, জামায়াতের নেতারা তাঁদের আমিরকে দরবেশ ভাবতে পারেন, কিন্তু আমির একের পর এক রাজনৈতিক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। আমিরের অতীতে জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতি করার প্রসঙ্গ টেনেও সমালোচনা করেন তিনি। এসব তৎপরতা মোকাবিলায় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুত আছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতের অবস্থান

রাশেদ খাঁনের এদিনের বক্তব্য নিয়ে জামায়াতের কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ দলটি আগেই নাকচ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীর জনসভায় ‘পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের আঁতাতের’ অভিযোগ তোলার পর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহছানুল মাহবুব জুবায়ের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং বিরোধী দলের যৌক্তিক আন্দোলনকে বিতর্কিত করতেই এমন কথা বলা হচ্ছে। তাঁর পাল্টা দাবি, জামায়াত নয়, বরং বিএনপিই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কর্মসূচি নিয়েছে।

কালীগঞ্জের অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, যুগ্ম সদস্যসচিব ইলিয়াস রহমান মিঠু ও কলেজের অধ্যক্ষ মশিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন।