শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের কাছে ১৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার চাইল সরকার, চলতি অর্থবছরেই ৩.৭৭ বিলিয়ন

চলতি অর্থবছরের প্রকল্প ও বাজেট সহায়তার বাইরে তিন বছরে আরও ১০ বিলিয়ন ডলারের নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ; আগামী জুনের মধ্যে তা চূড়ান্ত করতে চায় সরকার।

অর্থনীতির ওপর চাপ সামলাতে, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্ত করতে এবং কাঠামোগত সংস্কারের অর্থ জোগাতে বিশ্বব্যাংকের কাছে সব মিলিয়ে প্রায় ১৩.৭৭ বিলিয়ন (১ হাজার ৩৭৭ কোটি) ডলারের ঋণ ও সহায়তা চেয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনের বরাতে শুক্রবার দৈনিক আমার দেশ এ খবর দিয়েছে; বৃহস্পতিবার ঢাকা ট্রিবিউনও একই প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করে।

দুই পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, চাওয়া অর্থের দুটি ভাগ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চাওয়া হয়েছে ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার—এর ২.৭৭ বিলিয়ন প্রকল্প অর্থায়ন, বাকি ১ বিলিয়ন সরাসরি বাজেট সহায়তা। এর বাইরে ‘রেজিলিয়েন্স, রিফর্ম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ’ (আরআরআইপি) নামে প্রস্তাবিত একটি কাঠামোয় আগামী তিন বছরে নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে।

কোন খাতে কত

আমার দেশ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের অর্থ ১০টি পাইপলাইন প্রকল্পের জন্য। এর মধ্যে তুলনামূলক কম দামে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানির জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আইডিএর গ্যারান্টি হিসেবে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার, ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রোগ্রাম-২’-এর আওতায় ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের সংস্কারে ৪৫০ মিলিয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তার জরুরি প্রকল্পে ৩০০ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড লাইন রেলপথ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা ইনার সার্কুলার রিং রোডেও সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ঢাকার চারপাশের নদী-খাল পুনরুদ্ধার ও দূষণ রোধে একটি আমব্রেলা বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

আরআরআইপির ১০ বিলিয়ন ডলার চার খাতে ভাগের পরিকল্পনা রয়েছে: জ্বালানি তেল ও সারের মতো জরুরি আমদানিতে ৪ বিলিয়ন, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও আর্থিক খাত পুনরুদ্ধারে ৩ বিলিয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ (এমএসএমই) ব্যবসা ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে ১.৫ বিলিয়ন, আর আপৎকালীন ও সহ-অর্থায়ন খাতে ১.৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রস্তাব যেভাবে এগোল

প্রতিবেদন দুটি বলছে, আরআরআইপির প্রস্তাব প্রথম ওঠে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের বৈঠকে। পরে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) অ্যানা বিয়ার্ড ও দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট জোয়েল বার্লির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে। ৬০ দিনের মধ্যে ইআরডি, বিশ্বব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে একটি কারিগরি দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে; আগামী জুনের মধ্যে কাঠামোটি চূড়ান্ত করতে চায় সরকার। তবে ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী বলেছেন আলোচনা চলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

আইএমএফের নতুন ঋণে পুরোনো শর্ত

ব্যাংককে প্রতিনিধিদলটি আইএমএফের কাছ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ নিয়েও আলোচনা করেছে। আমার দেশের তথ্যমতে, আইএমএফ কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো ও ব্যাংক খাতের মূলধন ঘাটতি মেটানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে, আর অর্থমন্ত্রী মেনে নিয়েছেন যে ঋণে কিছু কঠোর ‘পারফরম্যান্স ক্রাইটেরিয়া’ থাকবে। দুই সপ্তাহের মধ্যে আইএমএফের একটি কারিগরি দল ঢাকায় আসছে।

প্রথম আলো শুক্রবার জানিয়েছে, আগের ঋণ কর্মসূচি বাতিল করে তিন বছর মেয়াদি নতুন কর্মসূচি নিয়ে দুই-তিন মাস ধরে আলোচনা চলছে, আর তাতেও আগের মতো শর্ত—এনবিআর ভেঙে রাজস্ব নীতি ও আদায় আলাদা করা, একক ভ্যাট হার, কর ছাড় কমানো—নিয়ে কথা হচ্ছে। পত্রিকাটির হিসাবে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ থেকে ৭ শতাংশে আটকে আছে, যা বিশ্বে সবচেয়ে কমগুলোর একটি।