শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

কুমিল্লায় জুমার খুতবার সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ১৭

শুক্রবার দুপুরে নুরপুর-তেলিকোনা সড়কে স্লোগান দিয়ে মিছিলের ঘটনায় ভিডিও দেখে ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

কুমিল্লা নগরে জুমার নামাজের খুতবা চলার সময় ‘শেখ হাসিনা আইতাছে’ স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী কাইয়ুমসহ ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথম আলো ও দৈনিক আমার দেশের প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নগরের চকবাজার-সংলগ্ন নুরপুর-তেলিকোনা সড়কে নিষিদ্ধ সংগঠনটির কয়েকজন নেতা-কর্মী ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের একটি ঝটিকা মিছিল করেন। মিছিলের পরপরই তাঁরা দ্রুত সরে যান।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম আলোকে জানান, প্রথমে কয়েকজন যুবককে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়। পরে হঠাৎ তাঁরা একটি ব্যানার বের করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে সরে যান। মিছিলের একটি ভিডিও শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম আলো লিখেছে, ভিডিওতে কয়েকজনের হাতে লাঠি এবং মুখে মাস্ক দেখা যায়।

পুলিশ জানায়, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করে। আমার দেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান তাঁদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, মিছিলে অংশ নেওয়া অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক কাইয়ুম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কুমিল্লা মহানগর শাখার একজন কর্মী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মহানগর সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত বাহাউদ্দিনের মেয়ের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কাইয়ুমের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পুলিশের ধারণা, কুমিল্লার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে ওই নির্দেশে মিছিলটি করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি; আটক ব্যক্তিরা অভিযুক্ত মাত্র, তাঁদের দোষ প্রমাণিত হয়নি।