জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছেড়েছেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের একজন সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটিতে তাঁর পদাবনতির দুই সপ্তাহ পর তিনি দল ছাড়লেন।
সামান্তা শারমিন জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি নাহিদ ইসলামকে হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এবং দলের গ্রুপেও সবাইকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নিজস্ব রাজনৈতিক লাইন স্পষ্ট না থাকায় এনসিপিকে জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হারিয়ে যেতে হচ্ছে এবং দলটিকে নানা ইস্যুতে জামায়াতের জন্য প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা নিতে হচ্ছে। একটি বড় দলের ‘লেজুড়’ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলটির নতুন রাজনীতির সম্ভাবনা নিঃশেষ করেছে বলেও তিনি মনে করেন। এ ছাড়া এনসিপির ভূমিকা নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে তাঁর অভিমত। কাউন্সিল এড়িয়ে কমিটি পুনর্গঠন নিয়েও তিনি অসন্তোষ জানিয়েছেন। সামান্তার ভাষ্য, এসব বিষয়ে বারবার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও দল গতিপথ বদলাতে আগ্রহী হয়নি।
সামান্তা শারমিন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র ছিলেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপির আত্মপ্রকাশের সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হন। গত ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি দলীয় কার্যক্রমে অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ গত ২৩ অক্টোবর পুনর্গঠিত কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।
পদত্যাগ নিয়ে ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, মানুষ তরুণদের পেছনে এমন এক রাজনৈতিক শক্তির প্রত্যাশায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, যারা পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর পুনরাবৃত্তি করবে না। তাঁর মতে, এখন চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন দল গঠন নয়, বরং এমন রাজনৈতিক ঐক্য নির্মাণ, যেখানে ভিন্নমত থাকবে কিন্তু বিভাজনই রাজনীতির চালিকাশক্তি হবে না। যাঁরা এই উদ্যোগে অঙ্গীকারাবদ্ধ, তাঁদের তিনি যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।