শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীতে সিজারের পর রক্তপাত বন্ধ হয়নি, গোদাগাড়ীর প্রসূতি জয়নব বানুর মৃত্যু; ভুল চিকিৎসার অভিযোগ স্বজনদের

রাজশাহী নগরের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গোদাগাড়ীর প্রসূতি জয়নব বানু (২৯) মারা গেছেন।

রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। মৃত জয়নব বানুর (২৯) বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামে। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

জয়নবের স্বামী আশরাফুল ইসলাম জানান, গত ২ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে স্ত্রীকে লক্ষ্মীপুরের কেয়ার নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। বিকেল চারটার দিকে ক্লিনিকের পরিচালক ও চিকিৎসক তাঁকে অস্ত্রোপচারকক্ষে নেন। সিজারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে জয়নবকে অস্ত্রোপচারকক্ষ থেকে বের করার পরই অস্ত্রোপচারের স্থান থেকে রক্তপাত শুরু হয়, যা কোনোভাবেই থামছিল না। স্বজনেরা রক্তের ব্যবস্থা করে দেন।

আশরাফুল ইসলাম আরও জানান, রক্ত দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে জয়নবকে আবার অস্ত্রোপচারকক্ষে নেওয়া হয়। এই দফায় তাঁকে ছয় ব্যাগ রক্ত ও দুই ব্যাগ প্লাজমা দেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে চিকিৎসক স্বজনদের জানান, রোগীকে বাঁচাতে হলে জরায়ু অপসারণ করতে হবে। স্বজনদের সম্মতিতে জরায়ু অপসারণ করা হয়। রাত আড়াইটার দিকে জয়নবকে অস্ত্রোপচারকক্ষ থেকে বের করা হলে চিকিৎসক জানান, দ্রুত আইসিইউতে নিতে হবে। কিন্তু নার্সিং হোমে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় সেই রাতেই তাঁকে নগরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, জয়নবের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং তাঁকে বাঁচানোর সম্ভাবনা কম। সেখানেও তাঁকে রক্ত ও প্লাজমা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১২ ব্যাগ রক্ত ও ছয় ব্যাগ প্লাজমা দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে বুধবার তাঁকে রামেক হাসপাতালের পোস্ট সার্জিক্যাল আইসিইউতে পাঠানো হয়, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, অস্ত্রোপচারের পর রক্তনালির ভেতরে ব্যাপকভাবে রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রক্তপাত বন্ধ হয় না এবং রোগীকে বাঁচানো কঠিন। তবে জয়নবের ক্ষেত্রে কী জটিলতা হয়েছিল, তা অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন। তাঁকে রামেক হাসপাতালে আনা হয়েছিল একেবারে শেষ মুহূর্তে।

আশরাফুল ইসলামের অভিযোগ, চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারের কারণেই তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার সকালে নার্সিং হোমে গিয়ে তাঁর কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়; ওই সময় সেখানে কোনো রোগীকেও চিকিৎসাধীন দেখা যায়নি। নার্সিং হোমের আরেক পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, মৃত্যুর কারণ অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকই বলতে পারবেন, তবে তাঁকে এখন পাওয়া যাবে না। তিনি জয়নবের মৃত্যুকে একটি দুর্ঘটনা বলে মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, এ কারণে স্বজনদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম বলেন, ঘটনাটি আগে তাঁর জানা ছিল না, বৃহস্পতিবার তিনি বিষয়টি শুনেছেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হবে। ভুল অস্ত্রোপচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।