দীর্ঘদিনের গবেষণার ফলাফল ও চমকপ্রদ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আলোকে, microbiota-directed complementary food No. 2 (MDCF-2) এখন বিশ্বব্যাপী শিশু অপুষ্টি নিরাময়ে সম্ভাবনাময় এক ভরসা। মার্কিন সাময়িকী টাইম (TIME) ২০২৫ সালের সেরা উদ্ভাবন তালিকায় এমডিসিএফ-২-কে অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ আইসিডিডিআরবি’র গবেষক তাহমিদ আহমেদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর জেফরি গর্ডনের নেতৃত্বে এ উদ্ভাবন বাস্তবতা পেয়েছে।
গবেষণা বলছে, শৈশবকালের মারাত্মক অপুষ্টি শুধু স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি-ই নয়—ভবিষ্যতে জটিল দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে থাকে। এর মূলে রয়েছে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের অপর্যাপ্ত ও অপর্যাপ্ত বিকাশ। এমডিসিএফ-২ একটি থেরাপিউটিক ফুড, যা এই 'উপকারি' ক্ষুদ্রাকৃতির অণুজীবসম্ভারকে লক্ষ করে প্রস্তুত হয়েছে। এতে এমন পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে যা বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া উৎপাদনকে উৎসাহিত করে; এসব ব্যাকটেরিয়া খাবার বিশেষ ধরনের অণুতে রূপান্তর করে, যেগুলো হাড়, মস্তিষ্ক, ও দেহসক্রিয় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়।
বাংলাদেশে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, যারা এমডিসিএফ-২ খেয়েছে, তাদের ওজন, উচ্চতা এবং সর্বোপরি বৃদ্ধি অন্যান্য প্রচলিত পুষ্টিসামগ্রীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত এক গবেষণায় আরও দেখা যায়, এমডিসিএফ-২ একটি "কী-এনজাইম" এর উৎপাদন বৃদ্ধি করে, যা শিশুর দেহের বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রফেসর জেফরি গর্ডন জানিয়েছেন, সামনের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই চিকিৎসা ‘বৃহত্তর জনগোষ্ঠীতে’ পৌঁছে দেয়া, এমন এলাকায় যেখানে অপুষ্টি সবচেয়ে বেশি এবং শিশুরা ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উদ্ভাবনটি ইউএন এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় উন্নয়নশীল দেশে পৌঁছানো গেলে অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর হারকে নাটকীয়ভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার একটি বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ ধরনের উদ্ভাবন শিশুদের সুস্থ জীবনযাপন এবং একবিংশ শতাব্দীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।