ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তাঁর স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখা থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মঙ্গলবার মামলাটি করা হয়।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন চট্টগ্রামে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। দুদকের সরকারি কৌঁসুলি মোকাররম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আসামিদের মধ্যে আরামিট সিমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, হিসাব বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার ১০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে আরামিট সিমেন্টের নামে ইসলামী ব্যাংকের বহদ্দারহাট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়, যা ২০১৭ সালের মে মাসে জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়। একই বছরের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ৫০০ কোটি টাকার কার্যকরী মূলধন ঋণের আবেদন করেন; ব্যাংক ৩৫০ কোটি টাকা অনুমোদন করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণের অর্থ ছাড় করাতে ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির নামে ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব থাকলেও দুদকের অনুসন্ধানে নির্ধারিত ঠিকানায় কোনো কার্যালয় বা গুদামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও স্ল্যাগ সরবরাহের কথা বলে ভুয়া চালান জমা দেওয়া হয় এবং বাস্তবে পণ্য সরবরাহ ছাড়াই ২৭টি বাই-মুরাবাহা ডিলের বিপরীতে পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়। সেই অর্থ প্রথমে অন্য একটি ব্যাংকের স্টেশন রোড শাখায় ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের হিসাবে জমা হয়, পরে বিভিন্ন হিসাব ঘুরে একটি অংশ আরামিট সিমেন্টের হিসাবে যায়।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রতারণা, জালিয়াতি, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। এর আগে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে অন্য একটি ব্যাংকের চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের আরেকটি মামলা চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ আদালতে বিচারাধীন। মামলার আসামিরা অভিযুক্ত মাত্র; আদালতে দোষ প্রমাণিত হয়নি।