বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, নিয়ম ভাঙলে স্বয়ংক্রিয় মামলা; পদ্মা সেতু চালুর পর ৫৮৯ দুর্ঘটনায় নিহত ১৫২

বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং ঠেকাতে ৫৫ কিলোমিটার সড়কে এআই-নির্ভর নজরদারির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এর ফলে ব্যস্ততম এই সড়কে আইন অমান্যকারী যানবাহনের চালকেরা এআই-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলার আওতায় আসবেন।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ, যার ৩৫ কিলোমিটার মুন্সীগঞ্জ জেলায় পড়েছে। এই সড়কে অধিকাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় ৫৮৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫২ জন নিহত এবং ৯৫০ জন আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে এসে বলেন, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, এক্সপ্রেসওয়ের সম্পূর্ণ এলাকা এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে এনে দ্রুতগতি, ওভারটেকিং এবং সড়ক আইন অমান্যকারীদের এআই-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর মতে, ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে এলে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও ওভারটেকিং বন্ধ হবে, চালকেরা সচেতন হবেন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনা ঠেকাতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গতিসীমা ও সাইন মার্কিং করা আছে এবং কয়েকটি জায়গায় সিসি ক্যামেরাও রয়েছে। তবে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা, সড়ক আইন না মানা এবং ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।