বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

আমবাগানের ফাঁকা জমিতে আদা চাষের পরিকল্পনা, গোদাগাড়ীতে বস্তায় আদা দেখে ভরসা কৃষিমন্ত্রীর

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের আমবাগানে আদা চাষের সম্ভাবনা যাচাই হচ্ছে; দেশে বছরে প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয় বলে জানান মন্ত্রী।

বরেন্দ্র অঞ্চলের আমবাগানের অব্যবহৃত জায়গায় আদা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরমংলা ইকো পার্কে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মন্ত্রী বলেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের আমবাগানে গাছের সারির মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় সাধারণত কলাই চাষ করা হয়। সেখানে সরাসরি জমিতে অথবা বস্তায় আদা উৎপাদনের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। মাটির ধরন ও চাষপদ্ধতি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

সরমংলায় যাওয়ার আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে মন্ত্রী রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানার হরিপুর ইউনিয়নের কসবা এলাকায় কৃষক মোহাম্মদ নাজমুল করিম সুজনের লিচুবাগানে বস্তায় আদা চাষের প্রযুক্তি পরিদর্শন করেন। ওই বাগানে প্রায় ৭০০ বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে।

আমদানিনির্ভরতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। কৃষিপ্রধান দেশে আদার মতো নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা কমানো জরুরি। আমবাগানের অব্যবহৃত জমিতে আদা চাষ করা গেলে কৃষকেরা একই জমি থেকে বাড়তি ফসল পাবেন, দেশের উৎপাদনও বাড়বে।

মন্ত্রী আরও বলেন, একসময় বরেন্দ্র অঞ্চল শুধু আম উৎপাদনের জন্য পরিচিত থাকলেও সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের পর এখানে ধান ও সবজি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষকদের তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী বলে উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনের সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান, গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহানসহ স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।