মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে তিন দিনের বৃষ্টিতে ঈশ্বরদীর মাঠে নুয়ে পড়েছে পাকা আমন; বিঘায় চার-পাঁচ মণ ফলন কমার শঙ্কা কৃষকের

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের হিসাবে ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর ১১৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে; কাটার আগমুহূর্তে পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে হেলে পড়ায় পচন ও ফলন কমার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

কাটার ঠিক আগে কয়েক দিনের অসময়ের ঝড়-বৃষ্টিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে মাঠের পাকা ও আধাপাকা আমন ধান নুয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় ধান পচে যাওয়া ও ফলন কমার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। দৈনিক ইনকিলাবের ঈশ্বরদী উপজেলা সংবাদদাতা সোমবার এ খবর দিয়েছেন। মাঠের ক্ষতির বিবরণ এবং কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য ইনকিলাবের সেই প্রতিবেদন থেকে নেওয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বিস্তীর্ণ জমির ধানগাছ শিষসহ মাটিতে হেলে পড়েছে। কোথাও শিষ পানিতে ডুবে আছে, কোথাও পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ মাটির ওপর বিছিয়ে আছে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন চাষিরা।

বৃষ্টি এসেছে অর্ণব থেকে

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্য উদ্ধৃত করে ইনকিলাব জানায়, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে গত বুধবার থেকে শুক্রবার (২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর) ঈশ্বরদী ও নাটোরের লালপুর এলাকায় মোট ১১৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের দেওয়া নামের এই ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। প্রথম আলো ২৯ অক্টোবর জানায়, টানা কয়েক দিনের তাপপ্রবাহের পর আগের দিন রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল ইসলাম পত্রিকাটিকে বলেন, অর্ণবের প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কিছুটা বৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ২৬ অক্টোবর ডেইলি স্টার বাংলাকে আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া বলেছিলেন, ঝড়টি অন্ধ্র উপকূল পেরিয়ে স্থলভাগে উঠলে ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

কৃষকের শঙ্কা

সুলতানপুর গ্রামের কৃষক মোক্তার হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, তাঁর জমির প্রায় পাকা ধান শিষসহ মাটিতে পড়ে গেছে। ১০ থেকে ১৫ দিন পর ধান কাটার কথা ছিল। জমিতে পানি জমে থাকায় ফলন কমবে বলে তাঁর আশঙ্কা। তাঁর ধারণা, ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে বিঘাপ্রতি চার থেকে পাঁচ মণ পর্যন্ত ধান কম মিলতে পারে।

মানিকৈড় গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম জানান, তাঁর মতো এলাকার অনেক কৃষকের রোপা আমনের খেত ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেখপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম মণ্ডলের আশঙ্কা, ধান পাকার শেষ সময়ে এমন দুর্যোগে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়তে পারে। কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক হলে এবং জমির পানি নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো যাবে।

কৃষি অফিস যা বলছে

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে; উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৬৬১ মেট্রিক টন ধান। তবে কত হেক্টর জমির ধান নুয়ে পড়েছে বা ক্ষতির পরিমাণ কত, সে বিষয়ে কৃষি অফিসের কোনো হিসাব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, এবার রোপা আমনের ফলন বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বিশেষ করে ব্রি ধান-১০৩ জাতে বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২২ মণ পর্যন্ত ফলনের আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু ধান পাকার সময়ে অসময়ের ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, কৃষি বিভাগ নুয়ে পড়া ধানের গোছা বেঁধে সোজা করে রাখার এবং জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছে, যাতে ধানগাছ ও শিষ পচে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।