মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজারে এক লাখ ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগের দিনই অভিযুক্ত এসআইকে নগদ পুরস্কার দিলেন এসপি, প্রশ্ন পুলিশের ভেতরেও

উখিয়ার বালুখালী ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে ইয়াবা সরানোর অভিযোগ ওঠার দিনই পুলিশ সুপার তাঁকে ও উখিয়া থানার ওসিকে পুরস্কৃত করেন; পুলিশ বলছে, এটি ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের স্বীকৃতি।

এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আত্মসাতের অভিযোগে উখিয়ার বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম কিবরিয়াকে নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক সেদিনই উখিয়া থানায় গিয়ে তাঁর হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান। একই ঘটনায় উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ।

রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। একই দিনে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত মাসিক সভায় সর্বোচ্চ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকা থেকে ছৈয়দুল বশর ওরফে সিসি বশরকে আটক করে পুলিশ। অভিযানে এসআই গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে একটি দল অংশ নেয়। অভিযোগকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী সরওয়ার সিকদারের দাবি, ওই অভিযানে দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু এসআই কিবরিয়াকে বাদী করে করা মামলার এজাহারে মাত্র ৫০ হাজার পিস জব্দের কথা বলা হয়েছে। বাকি এক লাখ পিস সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং পরে এক কোটি ১০ লাখ টাকায় মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সরওয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিকে প্রথমে বালুখালী পুলিশ ফাঁড়িতে এবং পরে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়; এরপর বালুখালীর জোড়াব্রিজ এলাকায় ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি কাগজে-কলমে দেখানো হয়। এজাহারে উল্লিখিত দুই সাক্ষী দেলোয়ার ও সাদ্দাম জানিয়েছেন, পুলিশের অভিযান ও ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না; মামলায় সাক্ষী হিসেবে তাঁদের নাম থাকার কথাও তাঁদের জানা নেই। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত আছে এবং ফুটেজ, জব্দতালিকা, মামলার নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করলে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, ২২ অক্টোবর ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ও একজনকে গ্রেপ্তারের স্বীকৃতি হিসেবেই এসআই কিবরিয়া ও ওসিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মাসিক সভায় এ পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে; পুলিশ সুপার এমন ‘ভুল’ করবেন, তা তাঁরা নিজেরাও বুঝতে পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।