বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

মিসর–সৌদি আরব–আমিরাত আলোচনা: তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে চার দেশীয় মন্ত্রী পর্যায়ের কাঠামোয় উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার সৌদি ও আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

অঞ্চলজুড়ে চলমান সংকট ও উত্তেজনা প্রশমনে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা করেছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, এ আলোচনায় তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত চার দেশীয় মন্ত্রী পর্যায়ের কাঠামোর মাধ্যমে সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি মঙ্গলবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান এবং আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদের সঙ্গে আলাদাভাবে ফোনে কথা বলেন বলে বুধবার মন্ত্রণালয় জানায়। সৌদি মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে তিনি সংকট নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আরও উত্তেজনা ঠেকাতে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। দুই মন্ত্রী মিসর, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের চার দেশীয় কাঠামোর মাধ্যমে সমন্বয় চালিয়ে যেতে একমত হন।

নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে আবদেলআত্তি লেখেন, তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সমন্বয় অব্যাহত রাখতে একমত হয়েছেন। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা ফোনালাপে তিনি আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন। অঞ্চলের দেশগুলোকে একযোগে প্রচেষ্টা চালানো, শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজা এবং সব পক্ষকে রাজনৈতিক পথে ফেরানোর আহ্বান জানান তিনি।

ফোনালাপের এক দিন আগে মিসরের পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল–সিসিকে সৌদি আরবকে সমর্থন এবং দেশটির ভূখণ্ড ও পবিত্র স্থান রক্ষায় সৌদির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ম্যান্ডেট দিয়েছে। এ পদক্ষেপের প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা হচ্ছে, জুলাই থেকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে; এর মধ্যে সৌদির বেসামরিক বিমান চলাচল স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলাও রয়েছে।

আলোচনাগুলো এমন সময় হলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে। হরমুজ প্রণালি আবার খোলার প্রশ্নে দুই পক্ষ এখনো মতভেদে রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, আর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ১৭ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে আলোচনা শুরু করলেও নৌ চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদে পরে তা ভেঙে পড়ে।