মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

এক দশকে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৩৫%, আমদানি ১০%; প্রধানমন্ত্রীর সফরে নজর বিনিয়োগে

২০১৬–১৭ অর্থবছরের ১০১ কোটি ডলার থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৩৬ কোটি ডলারে; তবে চলতি বছরের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সুফল এখনো পুরোপুরি আসেনি।

বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার জাপান। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বছরে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি ডলারের, যার প্রায় ৪০ শতাংশ বাংলাদেশের রপ্তানি; বাকিটা আমদানি। বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক দশকে জাপানে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং আমদানি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

২০১৬–১৭ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ১০১ কোটি ২৯ লাখ ডলারের; সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা ১৩৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৪০০ ধরনের পণ্য জাপানে যায়, যার বেশির ভাগই তৈরি পোশাক। এ ছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ ও জলজ প্রাণী, দুগ্ধজাত পণ্য, ফলমূল, চা-কফি-মসলা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যও রপ্তানি হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে প্রায় ১৮৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে; এর ৩৭ শতাংশ লোহা ও ইস্পাত, তারপর যানবাহন ও যন্ত্রাংশ।

জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) করেছে বাংলাদেশ, তবে এর সুফল এখনো পুরোপুরি রপ্তানিতে পড়েনি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকসহ চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এখন সে দেশে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে টয়োটার কারখানা ও জেরার এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শনের কথা রয়েছে। জাপানি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করতে চায় জাপান; অটোমোবাইল ও অন্যান্য উৎপাদন শিল্প এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সে দেশের উদ্যোক্তাদের আগ্রহ আছে।

বিনিয়োগের বর্তমান চিত্র অবশ্য সীমিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জাপান থেকে নিট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৫২ লাখ ডলার, আগের অর্থবছরে এসেছিল সাড়ে পাঁচ কোটি ডলারের বেশি। ২০১৮ সালে জাপান টোব্যাকো ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারে একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশে নিবন্ধিত জাপানি কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ৩৫০।

জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশনের (জেবিআইসি) তথ্যে টানা তিন বছর বাংলাদেশ জাপানি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা প্রসারের সেরা ২০ সম্ভাবনাময় দেশের তালিকায় আছে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) জরিপে প্রায় ৭২ শতাংশ জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহী বলে উঠে এসেছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ইতিমধ্যে জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে।

জাপান–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া বলেন, অনেক বেসরকারি জাপানি প্রতিষ্ঠান এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী এবং এই বিনিয়োগ এলে স্থবির অর্থনীতিতে গতি আসবে। এ জন্য দুই দেশের পার্লামেন্টে দ্রুত ইপিএ অনুমোদন করিয়ে কার্যকর করা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি বহাল রাখা দরকার বলে তিনি মনে করেন।