শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে দৈনিক মজুরিতে ৩,৪৩০ জন নিয়োগ: অনিয়ম হলে দায় কর্তৃপক্ষের, হুঁশিয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের

বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধনে দক্ষিণে ২,০২৬ ও উত্তরে ১,৪০৪ জন নেওয়া হবে; নিয়োগপ্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম চালাতে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে মোট ৩ হাজার ৪৩০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২ হাজার ২৬ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১ হাজার ৪০৪ জন অস্থায়ীভাবে নেওয়া হবে। দুই সিটিতে এই নিয়োগের প্রস্তাব ১২ অক্টোবর অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

নিয়োগে যাতে কোনো অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে দুই সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতেই কেবল দৈনিক মজুরিতে কর্মী নেওয়া যাবে। অনুমোদিত সংখ্যার অতিরিক্ত কাউকে নেওয়া যাবে না এবং কোনোভাবেই মাসিক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। অনিয়ম হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

নতুন কর্মীদের মজুরি সিটি করপোরেশনকে নিজস্ব বাজেট থেকে দিতে হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে বাড়তি অর্থ চাওয়া যাবে না। মজুরির ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। এই নীতিমালায় ঢাকার দুই সিটি এলাকায় একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা, অর্থাৎ মাসে ২৪ হাজার টাকা। অন্য বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় এ হার ৭৫০ টাকা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৭০০ টাকা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যমান জনবল দিয়ে দৈনন্দিন সেবা সুষ্ঠুভাবে চালানো সম্ভব নয়। তবে অতীতে দুই সিটিতেই নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর নজির আছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীরা নিজেদের পছন্দের লোক ঢোকানোর চেষ্টা করেন এবং চাকরি স্থায়ী করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে অনেকের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এত লোক কোন প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে, তা দুই সিটি করপোরেশন এখনো চূড়ান্ত করেনি। এত দিন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কর্মী নেওয়া হতো। কিন্তু ২১ সেপ্টেম্বর ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’ সংশোধন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংশোধিত নীতিমালায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও দপ্তর সরাসরি লোক নিতে পারবে, অথবা অর্থ বিভাগের অনুমোদিত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান আইআইএফসির মাধ্যমে নিয়োগ দিতে পারবে।

গত সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ নিয়ে এক সভা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থা চাইলে নিজেরাও সরাসরি এই জনবল নিয়োগ দিতে পারবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমান বলেন, কী প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকায় প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়, তা দ্রুত সরাতে আরও জনবল প্রয়োজন। তবে নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলে মত দিয়ে তিনি প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন।