শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

চাটমোহরে সার নিয়ে সিন্ডিকেট ও মজুতের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা সভায় মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশ ইউএনওর

পাবনার চাটমোহরে কিছু ডিলার সার মজুত করে সরকারি দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি করছেন বলে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযোগ উঠেছে।

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় সার সিন্ডিকেটের হাতে সাধারণ কৃষক জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতারা এসব অভিযোগ করেন। তাঁদের ভাষ্য, অনেক ডিলার সারের মূল্যতালিকা না টাঙিয়ে ইচ্ছেমতো দাম নেন এবং রোপা আমন মৌসুমের শুরু থেকেই কেউ কেউ সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে সামনের রবিশস্য মৌসুমে সারের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়, সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক কৃষক সার পাচ্ছেন না, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে জমি পতিত রাখছেন। কৃষকের প্রয়োজন নেই এমন সার না নিলে প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগও উঠেছে। নিমাইচড়ার মির্জাপুর, মূলগ্রামের রেলবাজার, ডিবিগ্রামের বামনগ্রাম বাজার ও ফৈলজানার শরৎগঞ্জ বাজারের ডিলারদের বিরুদ্ধে গুদামে মজুত রেখে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রির অভিযোগ আছে।

সরকারি দামে প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা ও পটাশ ১ হাজার টাকা। উপজেলায় বিসিআইসির ডিলার ১২ জন, বিএডিসির ১৭ জন ও খুচরা সার বিক্রেতা ৬৯ জন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খুচরা বিক্রেতা জানান, ডিলাররা সরকারি দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন; ফলে বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারাও সার পাচ্ছেন না।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে চাটমোহরে রোপা আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। অক্টোবরে উপজেলায় ইউরিয়া ৪৬৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ৫৪০ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৫০ মেট্রিক টন ও পটাশ ২৮৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি বরাদ্দের বাইরেও ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা পাশের উপজেলা থেকে কালোবাজারে সার কিনে মজুত করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই; সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলছে এবং অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দিয়ে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিক্রি তদারকি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। সভায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ হাসান বলেন, প্রতিটি সার বিক্রেতাকে মূল্যতালিকা টাঙাতেই হবে। সারের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ও সুষম বণ্টনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।