রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬

ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু ও মোসাদপ্রধান, ওয়াশিংটন জেনে যাওয়ায় ভেস্তে যায়: ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর

ইসরায়েলি টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৭ অক্টোবরের ভোটের আগে একটি অভিযানের প্রস্তুতি চলছিল; নেতানিয়াহুর দপ্তর বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

ইসরায়েলের গত ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মোসাদপ্রধান রোমান গফম্যান ইরানের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন অনিচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি জেনে যাওয়ায় পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়। নেতানিয়াহুর দপ্তর এ বিবরণ অস্বীকার করেছে।

ইসরায়েলি একটি টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন দেশটির নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এতে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এবং নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তবু প্রস্তুতি চলতে থাকে; একপর্যায়ে এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা সদস্য ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানিয়ে দেন এবং ওয়াশিংটন তা ঠেকাতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়।

এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর দপ্তর বলেছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই তখন স্পষ্ট করেছিলেন যে ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে হামলা আলোচ্যসূচিতে ছিল না।

এর আগে ভোটের দুই দিন আগে, ২৫ অক্টোবর ইসরায়েলি গণমাধ্যমে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে “নজিরবিহীন বিরোধের” খবর প্রকাশিত হয়। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন একটি সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এ বিরোধ হয়েছিল বলে বলা হয়। জামির আরও আলোচনা এবং পদক্ষেপটির আইনি অনুমোদনসংক্রান্ত নথিতে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর চেয়েছিলেন। ২৬ অক্টোবর আরও খবরে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ ও নেতানিয়াহুর চাওয়া সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করা একমাত্র শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন জামির। মার্কিন একটি সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছিল, নেতানিয়াহু কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে নতুন বিমান হামলার আয়োজন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেনাপ্রধান তা ঠেকিয়ে দেন। ২৫ অক্টোবর রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ওই খবরকে “বাজে কথা” বলে উড়িয়ে দেন এবং বলেন, জামিরের সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ নেই।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক, যিনি নেতানিয়াহুর সমালোচক, বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী সেনাপ্রধানের অগোচরে মোসাদের মাধ্যমে ইরানকে ঘিরে একটি “উসকানি” সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন।

এসব খবর এমন সময় এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। কাতার দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে এবং ওয়াশিংটন পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। ১ নভেম্বর ইসরায়েলি টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নতুন করে শুরু করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন।