কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রেকর্ড করার কারণে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানকে আদালতে তলব করা হয়েছে। সোমবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এক আদেশে তাঁকে ২৯ অক্টোবর সশরীর হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন।
আদেশে বলা হয়, দণ্ডবিধির ২১৮ ধারা অনুযায়ী ওসির বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা ও বিভাগীয় শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা তাঁকে ব্যাখ্যা করতে হবে। ১৭ অক্টোবর করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪-ক, ৩৩৮ ও ৩৪ ধারা উল্লেখ ছিল। মামলার এক দিন পর, ১৯ অক্টোবর, তদন্ত কর্মকর্তা জামিন অযোগ্য ৩০৪ ধারা সংযোজনের আবেদন করেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, মামলা রেকর্ডের সময় ওসি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ এই ধারা যুক্ত করেননি এবং ১০ পর্যটকের মৃত্যুর মতো ঘটনায় জামিনযোগ্য ধারায় মামলা নিয়ে তিনি গুরুতর অপরাধ করেছেন। আদালতের মতে, এতে আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি থেকে রক্ষা করার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল।
দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান আছে। ৩০৪-ক ধারায় সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। আদেশে আরও বলা হয়েছে, রিসোর্টে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ও ফায়ার এক্সিট ছিল না; ফলে আগুনে দগ্ধ পর্যটকেরা ভেতরে আটকা পড়ে বের হতে পারেননি। দীর্ঘদিন এই ঝুঁকি নিয়েই রিসোর্টটি চালানো হচ্ছিল বলে আদালত উল্লেখ করেন।
আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহাজাহান এলাহী নূরী। ওসি আতিকুর রহমান বলেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নোটিশ পাননি; পেলে যথাসময়ে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেবেন। তাঁর ভাষ্য, আগুন লাগার ব্যস্ততার মধ্যে এজাহারে ৩০৪ ধারা বাদ পড়েছিল এবং পরদিন সেটি যুক্ত করার আবেদন করা হয়।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৯৯৯-এর মাধ্যমে আগুনের খবর পায় পুলিশ। বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রিসোর্ট থেকে ১০ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ চেনা না যাওয়ায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য সেগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
উখিয়া থানার এক উপপরিদর্শক অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলাটি করেন। এতে চারজনের নাম আছে এবং ১৯ জন অজ্ঞাতনামা, মোট আসামি ২৩ জন। নাম থাকা আসামিরা হলেন রিসোর্টের মালিক তানভীর সুলতান মিয়া, প্রধান ব্যবস্থাপক সাঈদ আহমদ, ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাইদ ও সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন সুমন। এঁদের মধ্যে কেবল জাহিদ হোসেনকে ১৮ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তাঁর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে করা আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার হতে পারে। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম ভুলক্রমে এজাহারে বাদ পড়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন; নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন আদালতে করা হয়েছে।