আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, গাজার পাবলো এস্কোবার নামে পরিচিত ইয়াসের আবু শাবাব সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র ব্যবসা, মানবিক ত্রাণ দখল, চাঁদাবাজি ও গাজাকে অস্থিতিশীল করার কাজে যুক্ত। এসব গ্যাং যুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মানবঢাল, চোরাকারবারি, গোয়েন্দাগিরি ও গাজা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা বিনষ্ট করতে ব্যবহার হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইয়াসের আবু শাবাব ইসরায়েলের শিন বেত গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদে ‘পপুলার ফোর্সেস’ নামে নিজস্ব বাহিনী দাঁড় করান। তিনি পালিয়ে বেড়ানোর সময় মিশর, আমিরাত, রামাল্লার অফিসারদের সাথে যোগাযোগ করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সূত্রমতে, এদের অস্ত্র, অর্থ ও গোয়েন্দা লেনদেনও হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ—এসব গ্যাং ইসরায়েলি দখলদার সেনাবাহিনীর পক্ষেই কৌশলগত সহযোগিতা করেছে; গাজায় হিউম্যানিটারিয়ান এড্ লুট, জনপদে আতঙ্ক, আক্রমণ ও ত্রাস ছড়িয়েছে। ইসরায়েল ছাড়া অন্য কেউ তাদের রক্ষা করবে না এবং যুদ্ধ শেষে বর্তমানে তাদের ভাগ্য নিয়েই আলোচনার ঝড় উঠেছে।
এছাড়াও, প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, আরও কয়েকটি গ্যাং একইভাবে অস্ত্র, অর্থ ও রাজনৈতিক আশ্রয় পায়; অনেকে গাজা স্বশাসন ও প্রতিরোধ আন্দোলন ধ্বংসের ‘ছায়া অপারেশনে’ যুক্ত ছিল। যুদ্ধশেষে এসব বাহিনী নিয়ে ইসরয়েলি নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়; অনেক সদস্য এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে বা যুদ্ধশেষে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে পড়েছে।
চাঞ্চল্যকর তথ্য—এ গ্যাং-সমূহের অধিকাংশ অস্ত্র হামাস বা অন্যান্য গাজা প্রতিরোধ বাহিনীর কাছ থেকে ছিনতাই, উদ্ধার অথবা ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জব্দকৃত অস্ত্র থেকেই দেয়া হয়, যাতে তাদের অপারেশন ‘গুপ্ত থাকে’। এসব বাহিনী ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, নিরীক্ষা, এবং ঠেঙ্গা-গ্যাং স্টাইল আক্রমণ আর টার্গেটেড টাস্কে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্লেষক-সাংবাদিকরা যোগ করেন—ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যুদ্ধশেষে এসব বাহিনীর জন্য আর কোনো দায় নেবে না, এবং ইতিহাসে যেমন লেবাননের এসএলএ-কে (South Lebanon Army) উচ্ছেদ করে ফেলে রাখা হয়েছিল, গাজার গ্যাংদের একই পরিণতি হতে চলেছে।