সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

হুথিদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব ছাড়তে জরুরি দায়িত্বহীন মার্কিন কর্মীদের নির্দেশ; সীমিত পরিসরে চালু রিয়াদ বিমানবন্দর

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও হুথিরা ওই বিমানবন্দরকে ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ বলে হামলার হুমকি দিয়েছে।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবে অবস্থানরত জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের এক হালনাগাদ নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় এ কথা জানানো হয়েছে। সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, ইরানপন্থী হুথিরা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং যাতায়াতব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। দূতাবাস সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত দ্রুত সংশ্লিষ্ট এলাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সৌদি আরবের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারে মার্কিন সরকারি কর্মীদের এখন বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে।

এর মধ্যেই রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। শনিবার রাতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার থেকে ফ্লাইট আবার চালু হবে এবং যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়। মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং সৌদি বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালিত কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল করছে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী একটি ওয়েবসাইটের তথ্যে, জেদ্দা থেকে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ রোববার বিকেলে রিয়াদে নেমেছে। তবে রিয়াদ থেকে আসা-যাওয়া করা কয়েক ডজন ফ্লাইট আগে বাতিল করা হয়েছিল।

বিমানবন্দর চালুর ঘোষণার পর হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি এয়ারলাইনস ও যাত্রীদের বিমানবন্দর ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দরটি একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিণতির দায় সৌদি সরকারকে নিতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার সকালে রিয়াদ লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে; এর আগে রাজধানীর বাসিন্দাদের কাছে সম্ভাব্য ‘আকাশপথের হুমকি’র জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয় এবং কয়েকজন বিকট শব্দ শোনার কথা জানান। বিমানবন্দর পুনরায় চালুর আগে নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।

গত ১০ অক্টোবর হুথিদের ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হানলে অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০-র বেশি মানুষ আহত হন; এরপর বিমানবন্দরটি সাধারণ যাত্রীদের জন্য বন্ধ ছিল। সংঘাতের পটভূমি হিসেবে বলা হচ্ছে, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর গত জুলাইয়ে হুথিরা সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আবার সংঘাতে জড়ায়।

এদিকে ইয়েমেন সরকারি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলি রোববার রাতে জানান, ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে ৭৫৩টি হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে অন্তত ২১৮ জন হুথি সদস্য ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডার ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়েছেন এবং ৭৮টি যানবাহন, অস্ত্র ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকেজো হয়েছে। এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।